খুব রোদে পুড়ে যাওয়া নরম মন
অনুভবে আটকে থাকা কিছুক্ষণ,
তুই আর তোর অঙ্কের মতোন
কষতে বসেছি আমি ছুটির পরে!

যদি আলতো সোহাগের আদর দিস
খুব শীতে জবুথবু…. চাদর দিস,
যদি অভিমানে অভিনয়ে পাশ ফিরিস
খুব রেগে…. খুব বকে ফিরিয়ে দিস,
থাকবোই আমি তোকে আগলে ধরে।

তোর আকাশের যতো সাদাকালো
তোর শহরের সব নরম ধুলো,
আর তোর উদাসীন অনুভূতিগুলো
মেখে ফিরে গেছি শেষ ট্রেন ধরে!
আমি ফিরতে চেয়েই ফিরবো বারবার তোর ঘরে।

বৃষ্টি ভেজা শ্যামনগর
স্মৃতি গুলো সব কালচে…
sleeping পিলের ওভার ডোজ
চোখের কোনে লালচে

Break up series 1.

রোজ রাতের আবছায়ায় মরীচিকার প্রলেপ…
ধরা দিয়েও দাওনা
ফের ভাঙা বারান্দাটায় তোমায় খুঁজতে যাই
রেলিং ভাঙা ক্ষতয়..
মরছে পড়া গ্রিলে খুঁজি তোমার নিঃশ্বাস এর উত্তাপ, তোমার বিশ্বাসের আত্মজীবনী..
পাইনা কোথাও…
কড়িকাঠ বেয়ে নেমে আসা স্মৃতির মিছিলে পা মেলাই..
হয়তো পৌঁছে যাবো তোমাতে এই আশায়
তবুও সেই আশায় বুক বাধিনা..
আবার যদি চৌকাঠে হোঁচট খাই?
আবার যদি গোলাপের শেষ পাপড়িটার মতো ঝরে পর?
আটকাতে পারিনা তোমায়..
আশঙ্কার অপচয়।।ভীত সন্ত্রস্থ আমি..
ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসি ঘরবন্দি খেলায়..চার দেওয়ালের মাঝে..
বুজে আসে চোখ..সঁপে দি নিজেকে..
আর হঠাৎই টুকরো হয়ে যাওয়া এক খণ্ড হৃদয় থেকে ভেসে আসে এক মৃদু সুর ..

“আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি তোমায়…দেখতে আমি পাইনি…বাহির পানে চোখ মেলেছি আমার হৃদয় পানে চাইনি…..”

Break up series

ঠান্ডা কফিশপের ভিতরে ওরা দু’জন বসে আছে, নির্বাক-নিশ্চুপ| একজন প্রেমিক আর একজন প্রেমিকা| দুজনেই দুজনের প্রাক্তন, কিছুটা নিরুপায়-আর অনেকটা অনিচ্ছায়| ঘড়ির কাঁটা প্রায় চারটে ছোঁবে ছোঁবে করছে, বাইরে তখনও সূর্যের খেলা চলছে| ওয়েটার বয়টি অনেকক্ষণ ওর্ডার সার্ভ করে গেছে| কোল্ড কফিদুটো এ.সি-র কনকনে ঠান্ডায় মর্গে থাকা শীতল মৃতদেহের মতো, ওরা কেউ খায়নি এক চুমুকও, এখনও কথাও বলেনি কেউ কোনো|

প্রেমিক: তোদের দিল্লীতে এত গরম পড়ে?
প্রেমিকা: দাড়ি কাটিসনি কেন?ব্যর্থ প্রেমিক সাজছিস?-তোকে মানায় না|
প্রেমিক: (ডানদিকের গালে হাত বুলিয়ে সামান্য হাসিমুখে) নাহ্, শেভিং ক্রিমটা শেষ হয়ে গেছে, ফেরার সময় একেবারে কিনে নিয়ে ঢুকব|
প্রেমিকা: (কফিতে চামচ ডুবিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ে) আমাকে ডেকেছিস কেন?

প্রেমিকটি চুপ করে থাকে, উত্তরটা জানে তবু কিছু বলতে পারেনা| সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে নেই|

প্রেমিকা: (টেবিলে রাখা কাপগুলোর দিকে চোখের ইশারা করে)কফিটা খা, ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে|
প্রেমিক: তোর কর্তা মানুষটির সাথে আলাপ হল না| আসবে না এইবার?
প্রেমিকা: একটু বৃষ্টি হলে পারে, এত গরম তোদের এখানে| তার উপর না বলা গেস্টের মতো যখন-তখন লোডশেডিং| থাকিস কি করে?
প্রেমিক: (কাচ ঘেরা জানলার বাইরের দিকে তাকিয়ে)কেমন আছিস?
প্রেমিকা: (সপ্রতিভ ভাবে)ভালো, যতটা ভালো থাকা যায়, আছি|

প্রেমিকটি বুঝতে পারে এরপর আর কথা বলতে নেই| বাইরের তাপ ধীরে ধীরে কমছে, ভিতরটাও তত বেশী ঠান্ডা মনে হচ্ছে| কফিদুটো এখনও আগের মতোই পড়ে|

প্রেমিকা: (হাতের ঘড়ি দেখে) তুই উঠবি না? আমাকে এইবার বেরোতে হবে মনে হচ্ছে, বাপি ফোন করছে|
প্রেমিক: (কফির কাপগুলোর দিকে তাকিয়ে) আচ্ছা, আমরা আবার একসাথে থাকতে পারি না? ঠিক আছে, থাকব না, রোজ একবার করে আমাকে দেখতে আসতে পারবি না? ফোন করতে পারবি না?
প্রেমিকা: (অনুভূতিহীনভাবে)এত ড্রিংক করিস না|
প্রেমিক: বিশ্বাস কর, তোর জন্য, তোর কথা ভেবে আমি সারারাত ঘুমোতে পারিনা|
প্রেমিকা: (চেয়ার ছেড়ে উঠে, চোখে সানগ্লাসটা পড়ে নেয়) আমি সারারাত ঘুমোই| প্রতি রাতে আমি স্বপ্নে তোকে দেখতে পাই, তোর সাথে সংসার করি, ঝগড়া করি, তোকে নানা ছুঁতোয় স্পর্শ করি, তোর ভিজে চুল মুছিয়ে দি, তোর শরীরের গন্ধ প্রাণ ভরে নি, তোকে আদর করি| (কিছুক্ষণ থেমে)আচ্ছা, কোনটা বেশী কষ্টের?- সারারাত একজনের কথা ভেবে না ঘুমোতে পারা নাকি সারারাত ঘুমিয়ে তাঁর সাথেই স্বপ্নযাপন করা||

প্রেমিকাটি বেরিয়ে যায়, রোদ পড়ে গেলেও চোখ থেকে রোদচশমাটি খোলে না| মোবাইলটা হাতে নেয়, খুটখুট করে, হয়ত ট্যাক্সি ডাকছে| মিনিট খানেকের মধ্যে ট্যাক্সি আসে, উঠে পড়ে, পিছন ফিরে আর তাকায় না|

প্রেমিকটি তখনও কফিশপেই বসে, পুরনো দিনগুলোর মতো প্রেমিকার পিছু নেয়নি আজ, চুপচাপ বসে থাকল| সামনে আরো অনেক বেশী ঠান্ডা হয়ে যাওয়া-না খাওয়া কফির কাপ দুটো||