সমুদ্রবাসী যাযাবর উপজাতি ‘সামা-বাজাউ’

আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে না পারলেও যারা আলাদা সংস্কৃতিতে অভিন্ন মানসিকতার পরিচায়ক, তারা আমাদের কাছে ‘উপজাতি’ নামে সমাদৃত। আদিম জীবনধারা, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতাবাদ, ভিন্ন সংস্কৃতি, বাইরের জীবনের সাথে তাদের যোগাযোগ সঙ্কোচ, অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা তাদেরকে আমাদের থেকে আলাদা করেছে। এমনই এক উপজাতি, যারা বংশপরম্পরায় শতাব্দীর পর শতাব্দী জল কামড়ে পড়ে আছে, তারা জলভাসি, কোন কিছুই তাদের জল থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। তাদের বসতি ভিটের জলের নিচে আছে শতপুরুষের রক্ত, জলই তাদের জীবন, জলই তাদের মরণ। যারা এখনও পর্যন্ত নিজেদের ভূমি ও অন্যান্য অধিকার থেকে বিচ্ছিন্ন। স্মরণাতীত কাল থেকে সমুদ্রে বসবাসকারী আদিম এই জনগোষ্ঠী ‘সামা-বাজাউ’ বা ‘বাজাউ’ নামে পরিচিত, যারা এখনও টিকিয়ে রেখেছে ‘ফ্রি-ড্রাইভিং’ -এর প্রাচীন পদ্ধতিকে। মূল ভূখণ্ড থেকে কোন স্রোতে আলগা হতে হতে তারা আজ ভাসমান জীবন কাটায়, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

সামা বাজাউ বা বাজাউ উপজাতির মানুষদের আদি নিবাস ছিল ফিলিপাইনসের সুলু দ্বীপপুঞ্জ এবং ইন্দোনেশিয়ার মিন্দানাও দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে। সেখানে বহু বছর ধরে মোরো বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের সংঘাতের ফলে এই উপজাতির মানুষরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। বর্তমানে এরা ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াকে ঘিরে সুলু, সেলেবিস, বান্দা, জাভা, ফ্লোরেস এবং সাভু উপসাগরগুলোর নীল জলে ঘুরে বেড়ায়, তাদের বিশেষ আকৃতির নৌকা ‘লেপা-লেপা’-তে চড়ে। নির্দিষ্ট কোনও ঠিকানা না থাকায় এদের ‘সমুদ্র জিপসি’ বা ‘সমুদ্র যাযাবর’ (Sea Nomads) বলা হয়।

বাজাউ উপজাতিদের সামুদ্রিক জীবনযাপনের নেপথ্যে রয়েছে একটি যুদ্ধের ইতিহাস, যা আমাদের রূঢ় বাস্তবতার সাথে পরিচয় করায় : প্রায় হাজার বছর আগের কথা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোহর রাজ্যের রাজা তার রাজকন্যা দায়াং আয়েশার সাথে সুলু রাজ্যের রাজার বিবাহ সম্পর্ক স্থাপন করেন। রাজকন্যার বিয়ের সময় রাজকীয় নৌ বহর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সমুদ্রপথে।আর এই রাজকন্যাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল বাজাউ নামের এই উপজাতি যারা এই সমুদ্র অঞ্চলকে হাতের তালুর মতোই চেনেন। এদিকে ব্রুনেইয়ের তৎকালীন সুলতান আগেই দায়াং আয়েশাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, যা জোহর রাজা মেনে নেননি। ব্রুনেইয়ের রাজা সুলু রাজার সাথে আয়েশার বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি অপমানের প্রতিশোধ নেবার জন্য আরো বড় নৌবহর নিয়ে জোহর রাজ্যের নৌবহরকে অতর্কিতে আক্রমন করেছিলেন। গভীর সমুদ্রে বাজাউদের সাথে তুমুল লড়াইয়ের পর ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন জোহর রাজের রাজকন্যাকে এবং দেশে ফিরেই রাজকন্যাকে বিয়ে করেছিলেন। এর ফলে বিপদে পড়লেন রাজকন্যার সুরক্ষায় থাকা কয়েকশো বাজাউ এবং তাদের পরিবার। কারণ দেশে ফিরলে জোহর রাজা হত্যা করবেন তাদের। প্রাণের ভয়ে বাজাউদের আর দেশে ফেরা হয়নি। তখন থেকেই স্থলভাগের সাথে তাদের সম্পর্ক চিরকালের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সমুদ্র হয়ে ওঠে তাদের ঘর। সম্পূর্ণভাবে সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল বাজাউদের আজও পুরো জীবন কাটে সমুদ্রে।

সমুদ্র উপকূল থেকে ০.৫ কিলোমিটার সমুদ্রের দিকে সমুদ্রের অগভীর জলে বাজাউরা তাদের অস্থায়ী গ্রাম তৈরি করে। বাড়িগুলি সমুদ্র জলতল থেকে বেশ কিছুটা উপরে অবস্থান করায়, বাড়িগুলির নীচ দিয়ে সমুদ্রের ঢেউ বয়ে যায়। এদের ঘরগুলি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি যা সহজেই কয়েক ঘন্টার মধ্যে খুলে ফেলা যায়। বাজাউরা তাদের এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যাতায়াতের জন্য ছোট ছোট ডিঙির মত নৌকা ব্যবহার করে যা স্থানীয় ভাষায় “লেপা-লেপা” নামে পরিচিত। প্রাথমিক ভাবে খুবই সৌন্দর্যবিহীন জলযানগুলো, যার সারা গা জুড়ে রয়েছে দৈন্যতার ছাপ, রংচটা এবড়ো খেবড়ো পালিশ। শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি যে, এই উপজাতির অনেক মানুষ আছেন যারা এখনো কোনোদিন মাটিতে পা রাখেন নি। যাদের জন্ম থেকে মৃত্যু কাটে পুরোটাই নৌকাতে।

এই বাজাউরা তাদের নিজেদের বয়স বলতে পারে না। এই একুশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও তাদের সময় বা তারিখ সম্পর্কে কোনো সঠিক ধারণা নেই। তারা জানে না বিদ্যুৎ কি ও কি তার কাজ? সামুদ্রিক মাছের তেল থেকে প্রজ্বলিত মশাল আজও তাদের অন্ধকার রাতের দিশারী। আচ্ছাদনহীন বড়ই সহজসরল জীবন যাপন করে তারা। যেখানে মানুষ এখনও জলের সাথে সম্পৃক্ত।জলদিগন্তে একসাথে থাকে আর সমুদ্রের মাছ নিয়ে পার্শ্ববর্তী বাজারে বিক্রি করে থাকে। তারা জলবিলাসী, বানভাসি মানুষ যারা এই জলখণ্ডে আঁতুড়ঘর বেঁধেছিল।

এই উপজাতির মানুষদের শিকার করার পদ্ধতিটি ও বড়ো অদ্ভুত ; বাজাউ পুরুষরা সমুদ্রে নামার আগে ভারী হওয়ার জন্য কোমরে পাথর বেঁধে নেয়, যা তাদের খুব সহজেই সমুদ্রের নিচে নিয়ে যায়। তারা কাঠ ও কাচের টুকরো দিয়ে তৈরি করা জলনিরোধক চশমা ব্যবহার করে যা জলের তলায় দেখতে ও চোখকে জলের চাপ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। তারা সঙ্গে নেয় কাঠ দিয়ে বানানো বন্দুক। যেটা দিয়ে বিদ্যুৎগতিতে তির ছোঁড়া যায় জলের নিচে। এরপর বাজাউরা এক বুক শ্বাস নিয়ে খাদ্যের সন্ধানে নেমে যায় সমুদ্রের ৫০-১৫০ ফুট নিচে। তবে কিছু জনের ২৩০ ফুটেরও বেশি নিচে যেওয়া রেকর্ড আছে। অবিশ্বাস্যভাবে এরা জলের নিচে শ্বাস ধরে থাকতে পারে প্রায় ১০ থেকে ১৩ মিনিট। যা বিশ্বের আর কোনও উপজাতির মানুষরা পারে না। জলের নিচে শিকার করে তাদের প্রধান খাদ্য- বিভিন্ন মাছ, স্টিং রে, স্কুইড, অক্টোপাস। সবশেষে উঠে আসার সময় শরীরে বাঁধা ওজন খুলে ফেলে শরীরকে হালকা করে নেয়।

সামুদ্রিক খাবারের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল এই উপজাতিটি অত্যন্ত শান্ত এবং আমুদে প্রকৃতির। খাদ্য সংগ্রহের জন্য বছরের বেশিরভাগ দিনই তাদের সমুদ্রের নিচে নামতে হয় বলে প্রত্যেকটি বাজাউ পুরুষ ও নারী অবিশ্বাস্য মানের ডুবুরি। জলের ওপরের থেকে তারা জলের নিচে বেশি সাবলীল। ছোট বাজাউ শিশুরাও সমুদ্রের তলায় মাছের মতোই সাঁতার কেটে বেড়ায়। আমাদের শিশুরা যেমন মাঠে খেলতে যায় ঠিক তেমনই বাজাউদের শিশুরা খেলা করতেও সমুদ্রের জলে নামে। শৈশব থেকেই এদের ডুব দেওয়া, মাছ শিকার করার প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে যায়। আর মাত্র ৮ বছর বয়সেই সবাই পেশাদারী ডুবুরি ও মাছ শিকারিতে পরিণত হয়।

এখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এতক্ষণ জলের নিচে বাজাউরা কিভাবে শ্বাস ধরে রাখতে পারে? রহস্যটা কি, চলুন জেনে নেওয়া যাক। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক মেলিসা ইলার্ডো ও রাসমুস নিয়েলসেন বাজাউদের নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, বিখ্যাত জার্নাল সেলে। তারা ৫৯ জন বাজাউ এর শরীরের উপর পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন যে বাজাউদের জিনে থাকা কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য তাদের প্রাকৃতিক ডুবুরি করেছে। সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্য গুলি হল — বাজাউরা শ্বাস চেপে জলে ডুব দিলে হৃৎপিণ্ড তার কাজ কমিয়ে দেয় অক্সিজেন বাঁচিয়ে রাখার জন্য। পালস রেট নেমে দাঁড়ায় প্রতি মিনিটে মাত্র ৩০ বার। রক্ত প্রবাহের অভিমুখ ঘুরে যায় শরীরের বাইরের দিকের কলা কোষ থেকে শরীরের ভেতরের দিকে। রক্ত যায় মস্তিষ্ক হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে। মানুষের প্লীহা হল অক্সিজেন যুক্ত লোহিত রক্তকণিকার ভাঁড়ার ঘর। ডুবন্ত বাজাউদের প্লীহা ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে এই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে রক্তের স্রোতে অক্সিজেন যুক্ত লোহিত রক্তকণিকার জোগান বাড়িয়ে দেয়।

বাজাউ এবং বাজাউদের সঙ্গে অতীতে সম্পর্কযুক্ত বর্তমানে ডাঙ্গাতে বসবাসকারী মোরো উপজাতির মানুষদের প্লীহার আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে জানা যায় বাজাউদের প্লীহা মোরো উপজাতির মানুষদের তুলনায় ৫০% বড়। এই শারীরিক পার্থক্যই বাজাজের অবিশ্বাস্য ডুবুরি করে তুলেছে। বাজাউদের DNA বিশ্লেষণ করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী একটি জিনে আকস্মিক মিউটেশন দেখা গেছে। সেই জিনটি আপদকালীন প্রয়োজন অনুসারে রক্তস্রোতকে পাঠিয়ে দেয় সেই অঙ্গগুলোতে, যেখানে সবচেয়ে বেশি অক্সিজেন দরকার। এবং যে অঙ্গগুলোতে অক্সিজেন কম দরকার, সেদিকে রক্তস্রোত কমিয়ে দেয়। কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ নামে এনজাইম তৈরি করতে সক্ষম আরেকটি জিনেও পরিবর্তন দেখা গেছে। এই এনজাইমটি রক্তস্রোতে খুবই ধীরে কার্বন-ডাই অক্সাইড পাঠায় যা বাজাউদের শ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্লীহা সংলগ্ন পেশীর সংকোচন ঘটায় যে জিন তারও পরিবর্তন হয়েছে। যে জিনটি প্লীহার সংকোচন ঘটিয়ে রক্তে অক্সিজেন মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। বাজাউদের ফুসফুস সাধারণ মানুষের তুলনায় দেড় গুণ বড় হওয়ায় অনেক বেশি অক্সিজেন ধরে রাখতে পারে।

সুতরাং এ কথা বলা যেতেই পারে যে,শত শত বছর ধরে সামুদ্রিক পরিবেশে টিকে থাকা এবং খাদ্য সংগ্রহের জন্য সমুদ্রের গভীরে যাওয়ার অভ্যাস, বাজাউদের বিভিন্ন অঙ্গ, শ্বসনতন্ত্র এবং রক্ত সংবহনতন্ত্রে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তাই, বাজাউরা সমুদ্রের জলে মাছের মতোই প্রাণচঞ্চল অার সাবলীল। এটা জেনে আমরা অনেকেই হয়তো অবাক হব যে, বাজাউরা আজও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করে, কারণ- বাজাউদের দেশ নেই, পরিচয়পত্র নেই। ফিলিপাইনস, ইন্দোনেশিয়া আর মালয়েশিয়ার তীর বরাবর সুলু সমুদ্রে যাযাবর হয়ে ঘুরে বেড়ায় তারা। অসুস্থ হলেও সমুদ্রের তীরের ভূখন্ড ছোঁয়ার কোন উপায় নেই। কোন দেশের সুনির্দিষ্ট নাগরিক না হওয়ার সুবাদে উপকূলে এলেও সেই দেশের হাসপাতাল চিকিৎসা করে না, ফিরিয়ে দেয়, পুলিশ গ্রেপ্তার করে ফেলে রাখে জেলে, বিনা বিচারে। তাই জন্মের মতো বাজাউদের মৃত্যুও হয় সমুদ্রেই। নৌকা করে দূর সমুদ্রে নিয়ে গিয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হয় মৃতদেহ। সমুদ্রের ‘পুত্র-কন্যারা’ সামুদ্রিক জীবের খাদ্য হতে হতে সমুদ্রগর্ভেই বিলীন হয়ে যায়।

সময়ের সাথে সাথে কমে যাচ্ছে তাদের সংখ্যা, বিলুপ্ত হচ্ছে তাদের সংস্কৃতি। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক সূচক ও তাদের আর্থসামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, নিকট ভবিষ্যতে তাদের বিলুপ্তি আসন্ন। তাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। যারা এখনও পর্যন্ত নিজেদের ভূমি ও অন্যান্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। বাজাউরা হল — ‘The Real Life Aquaman’। তাদের থেকে আমরা একটা জিনিসই শিখতে পারি — ‘They demand the least to survive in unfavourable environment. Still they appear to be happy’।


লেখক :- টুবাই ঘোষ (মালডাঙ্গা, পূর্ব বর্ধমান)
[লেখক মুর্শিদাবাদের পাটিকাবাড়ি হাইস্কুলের ভূগোল শিক্ষক]
তথ্যসূত্রঃ- উইকিপিডিয়া ; দ্য ওয়াল ; ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ; এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
©টুবাই ঘোষ

মোয়াই মূর্তির রহস্যময় দ্বীপ ইস্টার আইল্যান্ড

অনিন্দিতা চৌধুরী

প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে রয়েছে প্রায় ৬৪ বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত একটি অভূতপূর্ব রহস্যে ঘেরা আগ্নেয় দ্বীপ ‘ইস্টার আইল্যান্ড’, এই দ্বীপে রয়েছে Stone Head বা মোয়াই মূর্তিসমূহ, যা আপনাকে একটিবার ভাবতে বাধ্য করবে। দ্বীপটিতে রয়েছে তিনটি প্রধান আগ্নেয়গিরি –টেরেভাকা, পোইকে, রানো কাউ। আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে দ্বীপটির উৎপত্তি। তাই দ্বীপটিতে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য আগ্নেয়শিলা। এখানকার সবথেকে বড়ো বিস্ময় হল আগ্নেয়শিলায় তৈরি দৈত্যাকৃতি সব মূর্তি। সমুদ্রতট থেকে পাহাড়ের কোলে প্রায় সর্বত্রই অতন্দ্র প্রহরীর মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সার দিয়ে মূর্তি গুলো। এগুলো কাদের মূর্তি? তৈরিই বা করেছিল কারা? পৃথিবীর মানুষ, না গ্রহান্তরের জীব? এরকম হাজারো প্রশ্ন বারবার উঁকি মেরেছে মানুষের মনে। রহস্যে ঘেরা এই দ্বীপটির হাতছানিতে অভিযাত্রী দল তাই বারবার ছুটে গেছে সেখানে।

দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে চিলির একটি দ্বীপ ‘ইস্টার আইল্যান্ড’। স্থানীয় ভাষায় ‘রাপা নুই’। বহু শতাব্দী আগে আগ্নেয়-দ্বীপের বাসিন্দারা পাথর খোদাই করে ওই প্রকাণ্ড মুখগুলো (জায়ান্ট হেডস) বানিয়েছিলেন। পূর্বপুরুষ পলিনেশিয়ানদের মুখ। একটা-দু’টো নয়। প্রায় হাজারটা মূর্তি বা ‘মোয়াই’। আনুমানিক ১২০০ খ্রিস্টাব্দে পলিনেশিয়ানদের পা পড়েছিল ওই দ্বীপে। রাপা নুইয়ের বাসিন্দাদের স্থাপত্য কীর্তিকে ১৯৯৫ সালে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’-এর মর্যাদা দেয় ইউনেস্কো। শত শত বছরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং সুকৌশল শিল্প-সংস্কৃতিতে ঘেরা চিলির দ্বীপ ‘ইস্টার আইল্যান্ড’। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপটিতে মূলত দক্ষিণ আমেরিকার আদি পলিনেশিয় জাতি রাপা নুইয়ের বাসস্থান। এজন্য এটি রাপা নুই নামেও পরিচিত। দ্বীপটির বিশেষ ধাঁচের তৈরী মোয়াই মূর্তিগুলো দেখতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে ইস্টার আইল্যান্ডে।
গোটা দ্বীপে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মোয়াই মূর্তিগুলো। অনন্য এবং ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্যের দরুণ মূর্তিগুলো তথা গোটা দ্বীপটি ইউনেস্কো দ্বারা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত।

ইস্টার আইল্যান্ডে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং রহস্যজনক আবিষ্কারটি ছিল বিশালাকার পাথরের মূর্তি, স্থানীয়রা মোয়াই বলে অভিহিত করে। তাদের অনেকগুলির উচ্চতা ৪ থেকে ১০ মিটার এবং ওজন ২০ টন পর্যন্ত। কিছু আরও বড়, তাদের ওজন প্রায় ৮০-৯০ টন। তাদের ভারী দীর্ঘস্থায়ী চিবুক, লম্বা কান এবং বিশাল বড় মাথা। এদের পা নেই, কারও কারও মাথায় লাল পাথর রয়েছে (তারা বিশ্বাস করে যে তারা মৃত্যুর পরে দেবদেবী হয়ে গেছে), মাথা থেকে কাঁধ, গড়ে ৪ মিটার (১৩ ফুট) লম্বা এবং ১৪ টন ওজনের বিশেষ আকৃতির মূর্তিগুলো তৈরির পেছনের কাহিনী নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মত, রয়েছে অস্বচ্ছতা। আসলে পুরো দ্বীপটির ইতিহাস সম্পর্কে কোনো লিখিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্যই নেই। আর লোকমুখেও এর প্রাচীন ইতিহাসের পাতাগুলো অস্বচ্ছ ও ঘোলাটে। দ্বীপটিতে মানুষের বসবাস কবে থেকে, সেটাও অস্পষ্ট।

ধারণা করা হয়, ৪০০ থেকে ১২৫০ সাল নাগাদ বা এই সময়ের কোনো এক অংশে রাপা নুই জাতি পলিনেশিয়ার ‘মারকুসেস দ্বীপ’ থেকে ইস্টার দ্বীপে এসে বসতি স্থাপন করেন। দুটি দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ২,২০০ মাইল তথা প্রায় ৩,৬০০ কিলোমিটার। তবে তাদের এই আগমন ঐচ্ছিক ছিল নাকি অনৈচ্ছিক, কিংবা আসলে কোন কারণে তাদের এখানে বসতি স্থাপন করতে হয় — তা আজ অবধি রহস্যেই ঘিরে রয়েছে। সেই সময়ে নতুন নতুন জায়গায় গিয়ে স্থায়ী বসবাসের পদ্ধতিটি পরিচিত ছিল বটে। তবে এত দূরের পথ, তাও আবার বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করে ঠিক কোন কারণে বসতি স্থাপন করা হল, তা ভাবার মতোই বিষয়। তাই ব্যাপারটিকে রহস্যজনক বলা পুরোপুরি ভুল নয়। শোনা যায়, ‘হোতু মাতু’ সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যিনি ডিঙি নৌকায় চড়ে এই দ্বীপে তার স্ত্রী এবং কিছু সাথী নিয়ে আসেন। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য তথ্যসূত্রের অভাবে তথ্যটির উপর পুরোপুরি নির্ভর করা চলে না।

রাপা নুইয়ের সংস্কৃতি কিছু পলিনেশিয় জাতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের ঐতিহ্যগত পোশাক হল পালক লাগানো পাগড়ি এবং ধুতি। গয়না ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র তৈরি হয় পাথর, কাঠ, ঝিনুক ও প্রবাল দিয়ে। রাপা নুই বা ইস্টার দ্বীপের পাথরের মোয়াই মূর্তিগুলো আনুমানিক ১,১০০ থেকে ১,৫০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। তবে কালের পরিবর্তনে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় মূর্তিগুলোর অধিকাংশ। ফলে মূর্তিগুলোর মাথা থেকে কাঁধ পর্যন্তই দৃষ্টিগোচর। এ কারণে অনেকেই মনে করতেন বা করেন যে, এগুলোর অস্তিত্বও এতটুকুই। কিন্তু একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ এ বিষয়ে গবেষণা করে তথ্যগুলো তুলে ধরেন। গবেষণার স্বার্থে এবং নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করার তাগিদে গবেষকদের এই দলটি কিছু মূর্তি খুঁড়ে তাদের পুরো শরীরের অস্তিত্ব খুঁজে বের করেন।

মোয়াই মূর্তিগুলো রাপা নুইদেরই পূর্বপুরুষদের প্রতিকৃতি বলে ভাবা হয়। ধারণা করা হয়, তাদের সর্দার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এসবের নির্মাণ। মূর্তিগুলো নির্মাণের পর বসানো হয়েছিল ‘আহু’ নামে পাথরের প্ল্যাটফর্মের উপর। ইস্টার আইল্যান্ডে এই আহুর সংখ্যা ৩০০-এরও বেশি। সাধারণত মিষ্টি জলের কাছেই মেলে এসব আহু। একই ধাঁচের পাথরের মূর্তি হওয়া সত্ত্বেও এদের চেহারা বা আনুষঙ্গিক আকার-আকৃতিতে কেন ভিন্নতা রয়েছে, সে প্রশ্ন মনে জাগতেই পারে।
আসলে ইচ্ছে করেই এটি করা হয়েছে। কারণ রাপা নুইয়ের মানুষজন চেয়েছিলেন, যার জন্য মোয়াই বানানো হচ্ছে, তার সাথে যেন কিছুটা সামঞ্জস্য থাকে। আর এর ফলেই মূর্তিগুলো ভিন্ন ভিন্ন।

বেশিরভাগ মোয়াই নির্মাণ করা হয় রানো রারাকু আগ্নেয়গিরির কাছে। কারণ, এ স্থানে আগ্নেয় তুফ শিলার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। আর এগুলো খোদাই করে মূর্তি বানানোও ছিল সহজ। তাছাড়া সেই সময় মূর্তি তৈরির জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ছিল না। শুধুমাত্র ‘তোকি’ নামক একটি টুল বা যন্ত্রই ব্যবহার হতো। তাই এ দিয়েই কাজ করা সুবিধাজনক ছিল। ধারণা করা হয়, এ ধরনের মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণে অভিজ্ঞ এমন একটি দলের কাছ থেকেই কেনা হয় বা তৈরি করে নেওয়া হয় মোয়াইগুলো। যারা এসব মূর্তি কিনে নেন, তারা তাদের কাছে যে দ্রব্য বেশি পরিমাণে থাকত, সেটি দিয়ে বিনিময়ের কাজটা সেরে নিতেন। মিষ্টি আলু, মুরগি, কলা, মাদুর এবং অবসিডিয়ান জিনিস দিয়ে বিনিময় করা হত। যত বড় মূর্তি, তত বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য দেওয়া হতো আরো বেশি দ্রব্য। এই মূর্তিগুলো তৈরির দক্ষতা ও কষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার একটি পদ্ধতি ছিল।

১৭২২ সালে এই দ্বীপে প্রথমবার জাহাজে করে ইউরোপিয়ানদের আগমন ঘটলে, তারাও মূর্তিগুলোকে অক্ষত অবস্থায় দেখে। কিন্তু এর পরে যারা আসে, তাদের বিবরণ হতে জানা যায় — যত সময় যাচ্ছিল, তত বেশি মূর্তিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। ১৯ শতক শেষ হতে হতে প্রায় সব মূর্তিরই করুণ দশা। অনেকে বলেন যে, হয়তো কোনো যুদ্ধ বা দ্বন্দ্বের কারণে শত্রুপক্ষ মোয়াই ধ্বংস করে রাপা নুইয়ের সংস্কৃতি নষ্ট করতে চেয়েছিল। সেক্ষেত্রে তো মূর্তিগুলোকে মাটি থেকে উঠিয়ে বের করে দেওয়ার কথা বা ভেঙে ফেলার কথা। কিন্তু মোয়াই তো আরো মাটির গভীরে চলে গিয়েছে! লোকমুখে শোনা যায়, নুহাইন পিকা ‘উরি নামে এক নারী ক্ষোভে তার ‘মানা’ শক্তি ব্যবহার করে মোয়াই মূর্তিগুলোর এই দশা করেন। ইস্টার আইল্যান্ডের স্থানীয় লোকজন এখনো এ গল্পেই বিশ্বাসী। পর্যটকদের জন্য মোয়াই স্পর্শ করা নিষিদ্ধ। রানো রারাকু জলাভূমি ঘিরে পাহাড়ের ধার ঘেঁষে সাজানো বহু ‘মোয়াই’। তারা সব সমুদ্রের দিকে মুখ তুলে চেয়ে।

সম্প্রতি ‘জরা’য় আক্রান্ত হয়েছে মূর্তিগুলো। ইস্টার আইল্যান্ডের উপকূল ঘেঁষে পাহারায় থাকা মুখগুলো ক্রমেই বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আর হয়তো মেরেকেটে একশোটা বছর। তার পরে আর চেনা যাবে না তাদের। এমনই আশঙ্কায় সংরক্ষণবিদদের। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ‘‘যেন কুষ্ঠ হয়েছে ওগুলোর।’’ মূর্তির গায়ে সাদা ছোপ ছোপ দাগ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ‘লাইকেন’ বাসা বেঁধেছে মূর্তির গায়ে। ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থান হল এই ‘লাইকেন’। দুয়ের যৌথ আক্রমণে ক্ষয়ে যাচ্ছে মূর্তির গা। পাথর ক্ষয়ে কাদার মতো আস্তরণ তৈরি হচ্ছে। আর তাতেই ধীরে ধীরে বিকৃতি আসছে ‘জায়ান্ট হেড’-এ। তা ছাড়া ঝোড়ো হাওয়া, এগিয়ে আসা সমুদ্রের জলরাশির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিগুলো। কিছু কিছু জায়গায় আবার ভেঙে পড়ছে। মোয়াই মূর্তিগুলি যথাযথ সংরক্ষণ না করলে, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক রহস্যঘন অধ্যায়ের বাহ্যিক অবলুপ্তি ঘটবে।


লেখিকাঃ- অনিন্দিতা চৌধুরী (শ্যামনগর, উত্তর চব্বিশ পরগনা)
তথ্যসূত্রঃ- উইকিপিডিয়া ; হিস্ট্রি টিভি ; ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে–
আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে।

নূতন মেঘের ঘনিমার পানে চেয়ে
আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে।

নয়নে এসেছে, হৃদয়ে এসেছে ধেয়ে।
আবার আষাঢ় এসেছে আকাশ ছেয়ে।

আজ সব সৌন্দর্য এই দু চোখে।
এই শীতল বাতাস আজ
তোমাকে ছুয়ে এসে আমাকে ছুয়ে যায়
আমি বাতাসে তোমার গন্ধ পাই…

তুমি ও কি,জেগে আছো
বৃষ্টি ভেজা রাতে
চোখের তারায় ঘুম জড়ানো
কবিতার বই হাতে
জানালা খুলে দূর আকাশে
দেখেছো কি তারার মেলা
আবছা আলো অন্ধকারের
লুকোচুরির খেলা,
মেঘের কোলে লুকিয়ে থাকা
মিষ্টি চাদের হাসি
ক্ষুদার্থ ঐ শিয়ালের ডাক

আর রাখালিয়ার বাশি।

তুমি ছাড়া ফোটে না ফুল
গায় না পাখি গান
দেহ নিয়ে বেচে আছি
রয়েছে শুন্য প্রান
দেখিনি সন্ধ্যা তারার মধ্যে

আলো জ্বালা জোনাকী
তোমার না বলা কথার মাঝে
রাত জেগে আছি🥰😘

#Anindita(2.00A.M) 22.06.2020

This is our home. We all talk about climate action. We go about strikes. We want our policy makers to work towards it.
But are we equipped?
Do we know enough? Do we think about climate action every time we take a decision? These are some questions we need to work on so our leaders know and work towards this unprecedented problem our future generation is set to face.
Let’s save our home, our earth!
Let’s be Environment Aware!
#iamenviroaware
#climateaction
#environment
#ClimateChange
#climatechangeisreal
#climatecrisis
#climateactionnow
#climateeducation
#climatepolicy
#fridaysforfuture
#climatereality

ছুঁয়ে থেকো নিঃশ্বাসটুকু আমার..

– “তোমার কখনো জানতে ইচ্ছে হয়নি,
বারবার কেন আসি আমি তোমার কাছে এভাবে..??”
-“ভালোলাগে বলেই ..
আলাদা করে জানবারই বা কি আছে..”
– “শুধুই কি ভালোলাগা??”
– “তবে??”
-“হয়তো আরও কিছু..”
– “যেমন??”
-“থাক,
-জীবনের সব কথা জানাতে নেই..
তবে জীবনটা বড্ড বানানো হয়ে যাবে..”
-“তবে কেনই বা জানানোর বৃথা চেষ্টা..??”
-“কি জানি,
হয়তো তোমাকে সবটা জানাতে বড্ড ভালোলাগে,
মনে হয়, তোমাকে সবটা জানালেও জীবনটা এতটাই সহজ-সরলই থাকবে..
কোনো পরিবর্তন আসবেই না..”
-“ফুলবালিকা আমার…”
-“বলো..”
-“সহজ হওয়া তো তোমাকে দেখে শিখেছি আমি..এত সহজ, এত সরল তুমি..
এই জটিল ধাঁধায় এখনো থাকতে পারে, সেটাও তো আমায় আবার বুঝিয়েছিলে..”
-“সবটাই যদি মিথ্যে ভড়ং হয় বেদুইন তবে??”
-“মুহুর্ত কখনো মিথ্যে হতে পারে না..
সবটাই চিরশ্বাশত হয়েই রয়ে গেছে..”
-“আলমারি ঘেঁটে অভিমান নামিও না
আমায় পরে কখনো জটিল মনে হলে..”
-“বড্ড সহজ রে …..
তাই এখনো শুষ্ক নীল আকাশে তোমাকে দেখতে পেলে আমি গলা ছেড়ে তোকে ডাকি ছাদের ঘরের কোনে পায়রা ঝাঁক নামাবো বলে…”
-“কখনো ভালোবেসে ফেললে??”
-“নিয়ে যাবো,
যেমন করে লেবুপাতা বুকপকেটে রেখে, মিছিল পেরোয় প্রেমিক শরীর….”
-“তুমি মায়ের মতো ভালো…”
-“পাগলী..
-আয় দেখি কাছে,
মাথাটা ঘেঁটে দি..”
-“জানো,
এই চুলের গন্ধ নিতে নিতে মাথায় হাত বোলানো, আমি এটার জন্যে বারবার, লক্ষবার ছুটে আসতে পারি তোমার কাছে..”
-“হ্যাংলামি করিস তো,
– আজকাল কেউ আমার কাছে হ্যাংলামি করে না…”
– “পাশে বসে আবদারের পাহাড় গড়বো..”
-“যা খুশী..
শুধু, ছুঁয়ে থাকিস নিঃশ্বাসটুকু আমার..
যেমন করে ঘুমের ঘোরে কনিষ্ঠা আঙুল ছুঁয়ে বিড়বিড় করিস ।।।।।।

তোমার শহরে

আজ আকাশ জুড়ে কেমন মন খারাপ
করা মেঘের আনাগোনা দেখেছো?
আমার বড্ড ইচ্ছে করছে মেঘের
সঙ্গী হয়ে ঘুরে আসি
তোমার শহরটায়!
তোমার আকাশটার এক কোনে ছোট্ট এক
মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকবো আমি।
তারপর ইচ্ছে মত টুপ করে ঝরে পড়বো
তোমাকে ছুঁয়ে দেবার আজন্ম তৃষ্ণা নিয়ে।
শুধু বলে দাও
আমাকেই ভালোবাসবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত?

লিডারশিপ

হাল ছেড়ে দিলেন তো হেরে গেলেন। লিডারশিপ এর শুরু সেখানেই যেখানে অন্যরা হাল ছেড়ে দেয়, চেষ্টা করা থামিয়ে দেয়। এবং এ জন্যেই আমাদের মাঝে লিডার বা সাকসেসফুল মানুষের সংখ্যা কম। অধিকাংশ মানুষ হাল ছেড়ে দেয় ইনস্ট্যান্ট রেসাল্ট না পেয়ে, ধাক্কা খেয়ে অথবা আশেপাশের মানুষের কথার কারনে। যেখানে এভারেজ মানুষ গিভ আপ করে, সেখানে হাল ধরার মাধ্যমেই এক্সট্রা অরডিনারি লোকের জন্ম হয়।
So, if you want to become a leader you just need to keep on going.

বলয় গ্রাস সূর্য গ্রহণ 🌑

জঙ্গল ভেঙে ভেঙে ধুলোর পাতায় ওঠে গান….
যতদূর দেখা যায় ততই পৃথিবী
ভারী হয়
পথের নিশানা দেয় জ্বলে ওঠা চেনা আলো
ধীরে ধীরে চাঁদ জাগে দুই চোখে পুড়িয়ে আকাশ, সভয়ে জড়ায় কালো কাপড়ে
গাছের গভীর ছুঁয়ে জেগে ওঠা সদ্য আকাশ
ভাবনার রঙ কালো হয় নদী ও আকাশে
চাঁদের গভীর থেকে চাঁদ ওঠে জড়িয়ে মানুষ ,
বলয় গ্রাস সূর্য গ্রহণে 🌑
#অনি