অনেক বছর পর । গুনতে গেলে 7 বছর 4 মাস 23 দিন।এতদিন আমি আমার ভেতর একা ছিলাম। আজ এই মুহূর্তে এল এক অস্তিত্ব সংকট।
দুজনেই বসে আছি ক্যাবের backseat এ।তুই সেই চিরচেনা ভঙ্গিতে।সাত বছরে দুজন দুজনকে চিনে নিয়ে অমর হয়ে গেছি। তোকে বলতে চাই অনেক কিছুই। সবতো আর মুখ ফুটে বলা যায় না। ঝাপসা হয় দৃষ্টি অতীতের flashback এ।
হেসে হেসে কত কথা, জাপটে ধরে প্রানপন চুমু খাওয়ার সেই সব দিন গল্পের মতন ছিল। অকস্মাৎ থমকে যাওয়া । তাকানোর চেষ্টা অন্য প্রান্তে। ধরা যেন না পড়ি কোনভাবেই। খানিকটা অপ্রস্তুত।হঠাৎই এত বছর পর দেখা। তাও আবার একই share এর ক্যাবে পাশাপাশি। হবে কি কোন গল্প কথা।সলটলেক নামব আমি।বাকি রাস্তা সঙ্গী হবে স্বপ্ন যাপন।
আজকের পর কেমন আছ আর হয়ত বলা হবে না। সঙ্গী হবে কিছু পুরনো চোরাটান।পুরনো খাতে ডুবব দুজনচোরাটানের আজও কি কিছু অবশিষ্ট আছে?ভীষণ চির চেনা ভঙ্গিতে পাশ ফিরে দেখবে তুমি।
দেখেও হবে না দেখার মতন ভান।
একটা কথা ভীষণ জানতে ইচ্ছে করছে , তুমি কি এখন অন্য জনের।অন্য কারো খাতার বন্দি কলম?
আমার কলম ভীষণ ক্ষতবিক্ষত দিয়ে তোমার মধুর যাপন।
আমার গন্ডি বাধা মানেনি তোমাকে ভালোবেসে,দুজনের প্রেম এক হয়ে গিয়ে পৃথিবী জুড়ে প্রেম বেঁচে ছিল আমাদের।তোর চোখ দুটি ভীষণ কৌতুহলী বুঝতে পারছি।
কৌতূহলী দুটি চোখে প্রশ্ন বুকে হাজার শতক। অতীত স্মৃতির flashback..ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্নের সন্ধানে ছিল আমাদের স্বপ্ন বিলাস।স্বপ্ন গুলো ছুঁয়ে অনুভব করার।কোন এক শীতের রাতের উষ্ণতা দিয়ে পুড়িয়ে ছিলাম সব স্বপ্ন।
প্রতি রাতে আমার ঘুম ভেঙে যেত অহেতুক কিছু স্বপ্নে। তুমি চলে যাবার পর আমার অঙ্ক মেলেনি।
তারপর থেকে কবিতা পড়ি। আজ ফ্রযেডের dream work পড়ছিলাম।তুই যেন তারই অঙ্গ।মাথার পিছনে গাড়ির backseat.মাথার মধ্যে ঝড়। তোমার আর আমার ব্যবধান এক হাত সীমার বন্দী। এমন অনেক গল্প তো 7 বছরের আগে ছিল।
কত আর নিদ্রাহীন থাকা যায়? কত আর ডায়েরি কেটে ঝড় লেখা যায়।যে ডায়েরিটাতে আমি 7 বছর আগের পরবর্তী জীবন লিপিবদ্ধ করতাম সেটাকে আমি কবর বলি।
সেই কবরে চাপা পড়ে আছে কলেজ জীবনের শেষ সময়গুলো।
আমি জন্ম জেদী। প্রেম নিয়ে আর বাজি লড়ি না। মদ খাই আর হ্যালুসিনেশানে ভুগি।আজ তো সারা রাত আমি নিদ্রাহীন থাকব। আজ তোর পাশে বসে সাহস পাচ্ছি মরে যাবার। বেচে থেকে কেনই বা আর মৃত্ শীতে রোদ পোহাব বল?
চোখে কি আর চোখ রাখতে পারব জানি না।ক্যবের ভিতরটা
কী অন্য দিনের চেয়ে বেশি ঠান্ডা?
তোকে দেখার পর অসহ্য ঠান্ডাটা চেপে ধরেছে।দমবন্ধ লাগছে।কাচ নামিয়ে দিলাম।ক্যাব ছুটছে। ক্যাব থামল করুণাময়ী। নামলাম।
সামনের traffic signal এ দুজনেই দাঁড়িয়ে। খেয়াল করলাম কখন যেন তুই আমার হাতটা ধরে নিয়েছিস।আমি হাত ছাড়াইনি। জ্যাম কাটিয়ে এগিয়ে গেলাম সোজা রাস্তায়।
একটু একটু করে সময় কাটছে। মেঘে ঢাকা আকাশ। ডিসেম্বরের নিম্নচাপ। শরীরের জমে থাকা বিষ ঢালছে প্রকৃতি।শীত করছে খুব। শূন্য মন। আর তা পূরণ করতেই দামাল বেগে বৃষ্টি নেমে এল কলকাতায়। ঠিক যেমন nothing remains like December rain এর মতন।
তোর চুলটা সামান্য উশকো খুশকো দেখতে পাচ্ছি তোর বা হাতের জ্বলন্ত সিগারেটটা নিজের মনে পুড়ে যাচ্ছে।সোজা রাস্তায় হাঁটছি আমরা। আলতো আলোয় কী অদ্ভুত মোহময় লাগছিলো রাতের কলকাতা। 7 বছর পর যেন ভেসে চলেছি অন্য পৃথিবীতে।

নবীন বরনে দেখা অনীক তোর সাথে প্রথম বার। তোর নীল পাঞ্জাবি। প্রথম দেখাতেই আবেশ।
আমি তাকিয়ে ছিলাম তোর দিকে তাই না। সব সময় তোর মাথার পোকা নডত। নিত্যনতুন idea গিজগিজ করতে তোর। কলেজের practical ক্লাসের দিনগুলো ভীষণ মনে পড়ছে। কিছু promise ছিল আমাদের group এর মনে পড়ে?
যা এখন অনেকটাই paralysed..
কেউ যেন আচমকা হাতুড়ি মেরেছিল সেদিন। হাটু দুটো ভীষণ দুর্বল লাগছিল সেদিন। অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছিলাম।আর সেই চোখের টানেই কী না জানি না তুইও ঘুরে দাড়িয়ে ছিলিস সোজা আমার দিকে চোখে চোখ রেখে। ওটা ছিল আমার বুকের দ্বিতীয় হাতুড়ীর বাড়ি।
কলেজটা যেন আশ্চর্য ভাবে থেমে গেছিল সেদিন।
শীতের দুপুরের নবীন বরণ আর পাশের গাছ থেকে দুটো পাতা থমকে গেল গাছ আর মাটির মাঝখানে। একটা মুহূর্তের মধ্যে আটকে গেছিল অনন্ত।
– ঠিক … নবীন বরনের দিন তোকে আমি দেখেছিলাম অনি । শাড়িতে। তুই শাড়ি সামলাতে ব্যস্ত ছিলিস। আঁচল টা সামান্য উডছিল। আমি ভাবছিলাম কোথা থেকে নেমে এল এই মেয়ে। এই মেয়ে এতদিন কোথায় ছিল। দিকভ্রান্ত নাবিক যেন খুঁজে পেয়েছিল তটরেখা। অন্ধকার প্রথম আলো খুঁজে পেল সেদিন। আমার সব প্রতিজ্ঞার মৃত্যু ঘটেছিল সেদিন।
হাওয়া বইছিল। নীল আকাশ পাতা ছিল আমাদের মাথায়। মনের মধ্যে ভিজে ছিলাম বর্ষার রোদে।

হেটে চলেছি।Christmas এর সাজানো শহরের আলোর রোশনাই।নিউ ইয়ারের প্রস্তুতি গোটা শহর জুড়ে

– চল সামনের রেস্টুডেন্ট এ গিয়ে বসি। চল।হাল্কা নীল নিযন আলো জ্বালানো গোটা রেস্টুডেন্টে ।কফি আর sandwich order দিয়ে এসে বসলাম সাইডের টেবিলে।
বললাম চল বিয়ার খাবি । কী বলিস কী সর্বনাশ। এখন আমায় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।। এটা তো মহা গেরো। কুলকুল করে ঘামছিস তুই বুঝতে পারছি।- এমন করে ভ্যাবলার মতন চেয়ে কেন আছিস?
জানিস চলে যাবার পর ভদকা খেতাম।
আমি চিরকালের টিউব লাইট। কী বলব বুঝতে না পেরে দপদপ করছিলাম। এটা কী সত্যি শীতকাল নাকি বসন্ত।
আমার সবকিছু শেষমেষ তোর কাছে এসে থামে।এতদিন হল ভুলতে পারলাম না কেন? আশেপাশের অনেকেই তো প্রেম পাল্টায়। আমি স্মৃতি পাল্টাতে পারলাম না কেন? বলেছিলাম যেদিন তুই অন্য কাউকে ছুঁবি সেদিন হবে আমার মৃত্যুদিন।
তুই না বলে চলে গেছিস।move on করেছিলাম তাই।
প্রথম প্রেমিকা হয়ে বেঁচে থাকার একটা আলাদা challenge আছে রে নীল। অনেকটা নিস্তব্ধতা । তুইই রেশটা ভাঙলি প্রথম।
বহু বছর পর……..
আমি- হুম।
চুপচাপ আছিস যে? আছিস কেমন?
আমি- যেমনটা রেখে গেছিস শহর ছাড়ার আগে।
কিরে ঝগড়া করছিস বিশ্বাস কর পাল্টাসনি একফোটা….
আমি- যেমনটা চিনতিস তেমনই আছি।
সত্যি বলছিস মনে হয় না।তাহলে এত বছরে তো একটা খোঁজ নিতি।
যোগাযোগ করতে পারতিস
আমি- প্রয়োজন বোধ করিনি।আর অভাব বোধও করিনি
তুই সংসারী হয়েছিস কিনা বুঝতে পারিনি নীল।জিজ্ঞেস করতে পারলাম না।গলা টা শুকিয়ে এসেছিল।
তুই বললি কী করছিস
– একটা school এ চাকরি।
কোথায় আছিস?
বাপের বাড়িতে ….familyr পিছুটান আর নেই রে।
আমার কথা থাক নীল।তুই বল।তোর খবর। বাড়ির খবর।
শহর ছেড়েছিলিস কেন নীল?
-মানসিক দ্বন্দ্ব বুঝিস?
আমাকে চলে যেতে হয়েছিলো ।আমার টাকার দরকার ছিল। অনেক টাকার।
আমি তো তোকে কিছু বলিনি তার জন্য। তোকে তো যেতে দিয়েছি।
হ্যা কেন দিয়েছিলিস যেতে অনি? আটকাতে পারতি।
– সাহসে কোলাযনি।
আজও কেন ঝগড়া করছিস?
শহরের কোলাহল কানে পৌঁচ্ছাচ্ছে না।
আজ হঠাৎই নীল??
– কাল সকালে flight. লন্ডন যাচ্ছি।
ও..সেই চলে যাবি।
এখন আর কলকাতা আগের মতন আর টানে না বল?
চুপ করে কেন আছিস ? কিছু তো বল?
ভাবিনি এভাবে আজ দেখা হবে তোর সাথে।
হুম রে।
প্রেম কি ছিল??
প্রেম নাকি? ব্যার্থ প্রেম বল।প্রেম তো একটা প্রাগৌতিহাসিক অনুভূতি।
আমার প্রশ্নটার জবাব কিন্তু তুই দিলি না।
আসলে কি জানিস মানুষ ফুরিয়ে যায় । না পাওয়ারা মরে না কখনও।
ভালোবাসতিস?
নিজের প্রতি মানুষের যে প্রেম
সেটা হারিয়ে ফেলাই প্রেম। আর যা কিছু খারাপ তার মধ্যে নেশা জন্মায়।এখন আর মন খারাপ নেই, ডিপ্রেশান নেই শুধু অদ্ভুত এক আকাশ বয়ে বেড়াচ্ছি বুকের ভেতর। -আমাদের আলোকবর্ষ দূরত্ব জানিস 7 বছর। ভাবতে পারিস কতদূরে চলে গেছিস।কলকাতার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদের স্মৃতি।এত বছরে কত সম্পর্ক হতে দিয়েও হতে দিইনি , ভেস্তে দিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই।এখন এসব ভাবতে গেলে ছোট ঘটনা মনে হয়।তুই আর আমি কতদিন বাঁচব এভাবে স্মৃতি নিয়ে ।সংসারের তুলনায় কতটুকু আয়ু আমাদের ?
-বুকের ভেতরটা কেমন যেন শুকনো লাগছিল । মনে হচ্ছিলো কতদিন শহরে বৃষ্টি নামেনি।তোর প্রতি আমার পুরনো ভালো লাগা গুলো গা গুলিয়ে উঠছিল।কলেজের পর সেই যে যোগাযোগটা বন্ধ করলি আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম। আর কোন মিসবিহেভ চাই না রে।শুধু যোগাযোগটা রাখিস।
শেষের কথাটা ভীষণ কষ্ট দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল এক দৌড়ে পালিয়ে যাই। আমি আর কথা বাড়াতে চাই না। হাঁটা দিয়েছিলাম restaurant ছেড়ে। এভাবে শেষ করে দিবি আবার সবটুকু।আমি ক্লান্ত …ভীষণ ক্লান্ত রে…. ……..দীর্ঘ ছেদহীন এক বিশ্রাম। আমি বুক ভরে শ্বাস নিলাম।তোকে ছেড়ে দেওয়ার decision এর পর থেকে নিজেকে গোরু মনে হয়।।
শোন তুই নেশার ঘোরে ভুল বকছিস।ছাড় আমায়। আমায় বাড়ি ফিরতে হবে। বাওয়ালি করিস না। আমি আর তোকে ভরসা করে বাঁশ খেতে চাই না।ছাড়।।দেখ এত সেন্টিমেন্টাল হোস না । বান্ধবী , প্রেমিকা এমন করিস না। এমন করলে চলে না, তুই যদি চলে যাস, চলে গেলে সমাধান করব কীভাবে? তুই নিজেও কী শান্তি পাবি এতদিন পরে??না তুই ছাড় আমায়।একটা সময় পর ছাড়তে জানতে হয়।7 বছর আগের মৃত লাশ আগলে থাকিস না আর। সম্পর্কটা মৃত। ওটা আর আগলাস না।
-মনটাকে আর মেরে ফেলিস না।এলোমেলো জীবনটাকে আবার সাজাতে পারি নতুন করে।মনমরা হোস না। এখন একটু বাঁচার ভরসা চাই।আর শ্বাস নেবার মতন বাতাস।
যা চলে যা– অপেক্ষা করব সারাজীবন তোর জন্য।।
যেতেই যখন বলছিস অপেক্ষা করিস না।
অসম্পূর্ণ বৃও থাক বলছিস……. কী বলিস??এক কক্ষপথে যাত্রা করতে ভয় পাচ্ছিস নাকি??
সত্যি বলছি আমরা জীবনটাকে উপন্যাস বানিয়ে ছাড়লাম।
প্রেমে আঘাত হওয়া নায়ক নায়িকা। টাকার অভাবে ডুবতে বসা দুটো জীবন। সলিউশনের জন্য দু প্রান্তে যাত্রা।একজন দেশ ছাড়ল।একজন অন্যের জন্য কাটিয়ে দিল 7 বছর।।
পুরনো জিনিস মনে পড়ছে।পুরনো সময় এসে থমকে যাচ্ছে নতুন সময়ে।সম্পূর্ণ হচ্ছে অপেক্ষা।
স্বপ্ন দেখছি। জীবন স্বপ্ন দেখার পকরিযা। আজ সন্ধ্যার তোর সাথে দেখা হওয়াটা কী সত্যি ছিল?? আমি স্বপ্ন দেখছি না তো??চোখ খুলব?? খুললেই ভেঙে যাবে না তো স্বপ্নটা??
দেখা হবে আবার কোন এক বছরের শেষ শীতে।তখন অসমাপ্ত আলিঙ্গনে কম্পাসের মানচিত্র সংকীর্ণ কলকাতা শহরে দিক ভুল করবে।।
গন্তব্যরা এত দ্রুত আসে কেন??
আমার কেন জানি না খুব পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। চোখ ছলছল।চশমার ভেতর দিয়ে দু এক ফোঁটা জল নামবে নামবে করছে।তোর চোখে চোখ পড়তেই জলবিন্দু টুপ করে লাফিয়ে নামল গালে। এমন বর্ষার কোন মরশুম লাগে না।
সন্ধা নামছে। গাড়ি ছেড়ে আমরা রাস্তায় নেমে এসেছি। অতীত দৃশ্য সব ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। আজ কী পূর্ণিমা। চাঁদটাকে বেশী উজ্জ্বল লাগছে যেন অন্যদিনের তুলনায়।
পূনিমার চাঁদ শীতের রাতের স্মৃতিসৌধ বানিয়ে দিয়ে যাচ্ছে আজ। দুই তরফের বরফ স্মৃতি গলবে কী আজ।গন্তব্যরা এত দ্রুত কেন আসে??
ক্ষনিকের সুখস্মৃতি কী শুধুই মূল্যহীন চোরা টান।
টুকরো টুকরো স্মৃতিগুলো শীতের ঝরাপাতার মতন হারিয়ে যাচ্ছে ভিড়ে। স্বপ্ন দেখছি না তো? স্বপ্নে ব্যাপার গুলো দ্রুত ঘটে।
শেষ পৃষ্ঠার হাতরানো না দেখা উওর। ভালো থাকার প্রতিজ্ঞারা আজ ঘুনধরা। এর মাঝে কেটে গেল 7 বছর। সমুদ্র সম পথ। আমাদের ছুঁয়ে দিয়ে যাচ্ছে রাতের আকাশের কুয়াশারা।সব কিছুর শেষে তুমিও আমায় বলবে — আভি না যাও ছোড় কার এ দিল আভি ভরা নেহী।।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s