ভারতের জলবায়ু , জলবায়ু পরিবর্তন ও ঘূর্ণিঝড়

মৌসুমি বায়ু দ্বারা ভারতের জলবায়ু বিশেষভাবে প্রভাবিত হওয়ায় ভারতবর্ষকে আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয় । ভারতের জলবায়ুর নিম্নলিখিত প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি পরিলক্ষিত হয় :-
(১) ঋতু পরিবর্তন :- বছরের বিভিন্ন সময়ে ঋতু পরিবর্তন হল ভারতের জলবায়ুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য— (ক) মার্চ মাস থেকে মে মাস গ্রীষ্মকাল (খ) জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস বর্ষাকাল (গ) অক্টোবর মাস ও নভেম্বর মাস শরৎকাল এবং (ঘ) ডিসেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাস শীতকাল । এই চারটি প্রধান ঋতু ভারতের জলবায়ুতে চক্রাকারে আবর্তিত হয় । এছাড়া ভারতে (ঙ) শীতের আগে হেমন্ত এবং (চ) শীতের পরে বসন্ত নামে অপর দুটি ঋতুর আভাস পাওয়া যায় ।
(২) মৌসুমি বায়ু বায়ু প্রবাহ :- গ্রীষ্মকালীন দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালীন উত্তর–পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহের প্রভাবে ভারতের ঋতু পরিবর্তন হয় । মৌসুমি বায়ুর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় ভারতকে “আন্তঃমৌসুমি বায়ুর দেশ” বলা হয় । গ্রীষ্মকালে ভারতে মৌসুমি বায়ু যে দিক থেকে আসে, শীতকালে ঠিক তার বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয় ।
(৩) চরমভাবাপন্ন জলবায়ু :- উত্তর ভারতের জলবায়ু দক্ষিণ ভারতের জলবায়ুর তুলনায় অনেক বেশি চরমভাবাপন্ন, অর্থাৎ উত্তর ভারতের শীত ও গ্রীষ্ম দুটোই খুব তীব্র ।
(৪) গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা :- গ্রীষ্মকালে ভারতের বেশির ভাগ স্থানে মার্চ মাস থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে । এপ্রিল মাসে উষ্ণতা আরো বেশি বেড়ে যায় । এই সময় উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের উষ্ণতা ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় । গ্রীষ্মকালে মে মাসে উত্তর ভারতের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ হয় । এই সময় মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় । গ্রীষ্মকালে মে মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারতের শুল্ক অঞ্চল সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয় । গ্রীষ্মকালে সময় সময় পশ্চিম ভারতের থর মরুভূমি অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে যায় ।
(৫) শীতকালীন তাপমাত্রা :- শীতকালে উত্তর ভারতের তাপমাত্রা দক্ষিণ ভারতের তাপমাত্রার তুলনায় বেশ কম থাকে । এই সময় উত্তর ভারতের তাপমাত্রা গড়ে ১০ ডিগ্রি থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয় । শীতকালে দক্ষিণ ভারতের গড় তাপমাত্রা থাকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো
(৬) বৃষ্টিপাত :-
(ক) ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের ৮৪% বৃষ্টিপাত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে, ১৩% শরৎকালে, এবং ৩% শীতকালে সংঘটিত হয় ।
(খ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে ও বর্ষাকালে অর্থাৎ জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সর্বাধিক হয় ।
3.উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে শীতকালে প্রায় শুকনো থাকে; তামিলনাড়ুর উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত করমণ্ডল উপকুল ছাড়া ভারতের অন্যত্র শীতকালে তেমন বৃষ্টিপাত হয় না ।
(ঘ) পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শীতকালে কিছুটা বৃষ্টি হয় ।
(ঙ) ভারতের বৃষ্টিপাত একটানা না হয়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতে বিরতি ঘটে ।
(চ) ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সঠিক সময় এবং পরিমাণ এক এক বছরে এক এক রকমের হয় । মৌসুমি বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা কোনও কোনও বছর ভারতে খরার অন্যতম প্রধান কারণ এবং অতিরিক্ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত ভারতে বন্যার প্রধান কারণ ।
(ছ) ভারতে আঞ্চলিক বৃষ্টিপাতের অসম বন্টন দেখা যায়— পশ্চিম উপকুল, আন্দামান নিকোবর, উত্তর–পূর্ব রাজ্যসমূহ ও উত্তরবঙ্গে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হয়; আবার রাজস্থানের মরুভূমি এবং লাদাখ, কারাকোরাম প্রভৃতি অঞ্চলে বছরে অতি অল্প বৃষ্টিপাত হওয়ায় এদের শুল্ক অঞ্চল বলা হয় ।

ভারতের জলবায়ুতে হিমালয় পর্বতের প্রভাব:- ভারতের সমগ্র উত্তর ভাগ জুড়ে হিমালয় পর্বত শ্রেণি বিস্তৃত থাকায় ভারতের জলবায়ুর উপর হিমালয় পর্বতের অসাধারণ প্রভাব রয়েছে ।(১) হিমালয় পর্বতের অবস্থান ভারতীয় উপমহাদেশকে মধ্য এশিয়ার হাড় কাঁপানো শীতের হাত থেকে রক্ষা করেছে । হিমালয় পর্বত না থাকলে ভারতেও রাশিয়া ও চিনের মতো তীব্র শীতের প্রাবল্য দেখা যেত ।
2.সমুদ্র থেকে আগত জলীয় বাস্প পূর্ণ দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতের দক্ষিণ ঢালে বাধা পেয়ে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় । মৌসুমি বায়ু প্রবাহের দ্বারা সংঘটিত বৃষ্টিপাতে হিমালয় পর্বতের অসাধারণ প্রভাব রয়েছে ।
(৩) ভারত এমনিতে উষ্ণ মৌসুমি জলবায়ুর দেশ হলেও উচ্চতার প্রভাবে হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে অনেকটা তুন্দ্রা অঞ্চলের মতো অতি শীতল জলবায়ু দেখা যায়

বিশাল ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ ভুপ্রকৃতির জন্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং স্বাভাবিক উদ্ভিদের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে আবহাওয়াবিদ কোপেন-এর মত অনুসরণ করে ভারতকে আটটি জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে,

যথা:- (১) শীতল পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চল, (২) উষ্ণ মরু অঞ্চল, (৩) ক্রান্তীয় অতি আর্দ্র মৌসুমি অঞ্চল, (৪) উপক্রান্তীয় আর্দ্র মৌসুমি ও শুষ্ক শীতপ্রধান অঞ্চল, (৫) নাতিশীতোষ্ণ স্বল্প গ্রীষ্ম ও শীতল আর্দ্র অঞ্চল, (৬) ক্রান্তীয় সাভানা অঞ্চল, (৭) মরুপ্রায় ক্রান্তীয় অঞ্চল এবং উপক্রান্তীয় স্টেপস অঞ্চল, (৮) ক্রান্তীয় শুষ্ক গ্রীষ্ম ও শীতকালীন বৃষ্টিপাত অঞ্চল ।

(১) শীতল পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চল :- হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও জম্মু-কাশ্মীরের পার্বত্য অঞ্চল; হিমাচল প্রদেশের রোটাংপাস এবং লাহুল ও স্পিটি উপত্যকা; উত্তর প্রদেশের কেদারনাথ, বদ্রী নারায়ণ, গঙ্গোত্রী-গোমুখ অঞ্চল প্রভৃতি শীতল পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত । সারা বছরই এখানে তীব্র শৈত্য থাকে এবং শীতকালে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে -১ ডিগ্রি থেকে -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়

(২) উষ্ণ মরু অঞ্চল:- পশ্চিম রাজস্থানের মরুস্থলী ও থর মরুভূমি এই অঞ্চলের অন্তর্গত । গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলের উষ্ণতা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায় । এছাড়া এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২ থেকে ২০ সেমি । এই জন্য এই অঞ্চলকে শুষ্ক অঞ্চল বলা হয় ।

(৩) ক্রান্তীয় অতি আর্দ্র মৌসুমি অঞ্চল :- এই জলবায়ু অঞ্চলের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি – ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টি পাতের পরিমাণ ২৫০ থেকে ৩০০ সেমিরও বেশি । ভারতের পশ্চিম উপকূলবর্তী কেরালা, কর্ণাটক এবং গোয়া রাজ্য এই অঞ্চলের অন্তর্গত । এই অঞ্চলগুলি অত্যধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল ।

4.উপক্রান্তীয় আর্দ্র মৌসুমি ও শুষ্ক শীতপ্রধান অঞ্চল:- মৌসুমি বাহুর প্রভাবে এই অঞ্চলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে মাঝারি থেকে ভারী ধরনের বৃষ্টিপাত হয় । এছাড়া এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক এবং শীতকালে শীতল আবহাওয়াযুক্ত হয় । উত্তর ভারতের সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে এই জলবায়ু দেখা যায় ।

(৫) নাতিশীতোষ্ণ স্বল্প গ্রীষ্ম ও শীতল আর্দ্র অঞ্চল:- অসমের পূর্বাংশ ও অরুণাচল প্রদেশকে নিয়ে গঠিত এই জলবায়ু অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অত্যধিক । প্রায় ২৪০ সেমি থেকে ৩০০সেমি । এছাড়া স্বল্প স্থায়ী গ্রীষ্মকাল এবং শীতের কিছু দিন বাদ দিলে সারাবছর ধরে নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ।

(৬) ক্রান্তীয় সাভানা অঞ্চল :- দক্ষিণবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুর কিছু অংশ, গুজরাট প্রভৃতি অঞ্চলে এই ধরনের জলবায়ু দেখা যায় । শুকনো শীতকাল এবং অতি উষ্ণ গ্রীষ্মকাল হল ক্রান্তীয় সাভানা জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য । এই ধরনের জলবায়ুতে সাভানা তৃণভূমির সৃষ্টি হয়, তাই এই জলবায়ু অঞ্চলের নাম রাখা হয়েছে ক্রান্তীয় সাভানা অঞ্চল ।

(৭) মরুপ্রায় ক্রান্তীয় অঞ্চল এবং উপক্রান্তিয় স্টেপস অঞ্চল :- পূর্ব রাজস্থান, দক্ষিণ-পশ্চিম পাঞ্জাব এবং ভারতের পশ্চিম উপকূলবর্তী পশ্চিমঘাট পর্বতমালার বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাঝারি থেকে বেশ কম প্রায় ২০ থেকে ১০০ সেমি । জলবায়ু চরমভাবাপন্ন অর্থাৎ শীত ও গ্রীষ্ম দুই খুব বেশি ।

(৮) ক্রান্তীয় শুষ্ক গ্রীষ্ম ও শীতকালীন বৃষ্টিপাত অঞ্চল:- ভারতের পূর্ব উপকূলের দক্ষিণ অংশে প্রধানত করমণ্ডল উপকূল অবস্থিত এই জলবায়ু অঞ্চলের গ্রীষ্মকাল শুষ্ক প্রকৃতির এবং সাধারণত শীতকালেই বেশি বৃষ্টিপাত হয়।

মৌসুমি বায়ু দ্বারা ভারতের জলবায়ু বিশেষভাবে প্রভাবিত হওয়ায় ভারতবর্ষকে আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয়।ভারত কৃষি নির্ভর দেশ।অর্থনীতিও কৃষিভিত্তিক।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কৃষি ক্ষেত্রে। কৃষি নির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোতে পড়ছে বিরূপ প্রভাব। গত শতাব্দীতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে ২৩%, নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে ১৯% এবং মিথেনের পরিমাণ বেড়েছে ১০০% বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে নানা রকম প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা বা হুমকি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। এই পরিবর্তনে জনসংখ্যার যে অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন, তারা হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

সমুদ্র তীরবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান, মাত্রাতিরক্ত জনসংখ্যা, অপ্রতুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং এর ওপর অধিক নির্ভরশীলতা ইত্যাদি কারণে দেশের বিপন্নতা খুবই ভয়াবহ। জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য সর্ব স্তরের জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা একান্ত প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা- প্রাকৃতিক কারণ ও মনুষ্য সৃষ্ট কারণ। প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- সূর্যের শক্তি উৎপাদনে হ্রাস-বৃদ্ধি, মহাসাগরের উত্তাপ শক্তির পরিবর্তন, সমুদ্রশ্রুতের পরিবর্তন, মহাদেশসমূহের স্থান পরিবর্তন, আগ্নেয়গিরির দূষণ, এলনিনো ও লানিনা এর প্রভাব ইত্যাদি। মনুষ্য সৃষ্ট কারণ- শিল্প বিপ্লবের পর উনিশ শতকের সূচনালগ্ন থেকে জীবাশ্ম জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া, বন উজার, জৈবিক পচন, কৃষিক্ষেত্রে সার ও কীটনাশকের অযাচিত ব্যবহারসহ বহুবিধ কারণে বায়ুম-লে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস বিশেষ করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস-অক্সাইড, সিএফসি গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সূর্য থেকে আগত তাপ রশ্মিকে পুনরায় মহাকাশে প্রতিফলিত হওয়ার পথে বাধার সৃষ্টি করে, ফলে পৃথিবী ক্রমাগত উষ্ণ হচ্ছে। আইপিসিসির সমীক্ষা অনুযায়ী বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

জমির উর্বরতা হ্রাস
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিক্ষেত্রে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতাসহ কৃষি পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে জমির উর্বরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে ফসলের উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। যদিও পলির পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে কোথাও কোথাও ভূমির ব্যবহার উপযোগিতা বৃদ্ধি পায় কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় এ লাভ অপ্রতুল।
কৃষির ওপর ঘূর্ণিঝড়/সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতিকর প্রভাব
সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে মুহূর্তের মধ্যেই আক্রান্ত এলাকার ফসল, বৃক্ষরাজি, পশুপাখি, জীবজন্তু, ঘরবাড়ি ও মানুষসহ সবই ধ্বংস হয়ে যায়

কৃষির ওপর নদীভাঙন ও ভূমি ক্ষয়ের ক্ষতিকর প্রভাব
নদীভাঙনের ফলে প্রচুর উৎপাদনশীল জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। প্রতি বছরই নদীর কূল ভেঙে অনেক কৃষি জমি, বসতি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কৃষি জমি কমে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং নদীর দুই-কূলবর্তী অসংখ্য মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব ভাসমান মানুষে পরিণত হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবর্ষণের সময় উঁচু এলাকার উপরিভাগের উর্বর মাটি ধুয়ে ক্ষয়ে যায়, কখনও কখনও ভূমি ধস হয়। ফলে এসব এলাকার মাটি ক্রমান্বয়ে উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ধীরে ধীরে ফসল উৎপাদনের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মরুকরণসহ অন্যান্য কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। ফলে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের বিলুপ্তি ঘটছে।

অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘন ঘন ঝড়ের জন্য বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা।
গত বছরের তুলনায় এ বছর ঝড়ের সংখ্যা অধিক। এমনকি একই সময়ে বিশ্বে একাধিক ঝড় তৈরি হচ্ছে।বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং এল নিনোর নিরপেক্ষতার কারণে সাগরের পরিবেশগুলোও অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। যেমন ভারত মহাসাগরে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা একদুই ডিগ্রি বেশি উষ্ণ ছিল। এসব কারণে এখানে ঝড়গুলো দ্রুত তৈরি হচ্ছে। তার অনেকগুলো পরবর্তীতে বড় হয়ে যাচ্ছে, অনেকগুলো আর বাড়ছে না।
যতদিন পর্যন্ত এসব সাগরের উষ্ণতা যথেষ্ট মাত্রায় নীচে নেমে না আসবে,ততদিন এসব ঝড়ের দেখা পাওয়া যাবে। ‘সাইক্লোনের পরিবেশ তৈরির একটি বড় কারণ সাগরের ওপরের তাপমাত্রা ২৬.৫ বা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকা। এখন বিশ্বের অনেক এলাকার সমুদ্রেই এমনটা দেখা যাচ্ছে।’
নভেম্বর মাস থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে দুর্বল এল নিনোর তৈরি হতে পারে। এল নিনো তৈরির জন্য ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা , এল নিনো তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য এলাকায় সাগরের উষ্ণতা কমে যাবে। তখন এসব সাগরে ঝড়ের প্রবণতাও কমবে। তবে সেটি বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধিকে আবার প্রভাবিত করবে।
বিশেষ করে এল নিনো (পেরুর উপকূলে সমুদ্রের উপরের জল গরম হয়ে যাওয়া, যা সেখানে মেঘ সৃষ্টি আর প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, দুই বা সাত বছর পরপর তৈরি হয়) তৈরি হলে সেটি বিশ্বের অন্যান্য এলাকায় একযোগে ঝড়ের প্রবণতা অনেক কমে যাবে।

আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে পৃথিবীর উত্তাপ৷ গ্যাস গুলি হল
গ্রিনহাউস গ্যাস: কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস-অক্সাইড, পানির বাষ্প ইত্যাদির সমন্বয়ে সৃষ্টি হওয়া এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ, যা সূর্যের আলো বেশি শোষণ করে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে৷ যত বেশি গ্রিন হাউস গ্যাস তৈরি হয়, তত বেশি তাপমাত্রা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভিতরে আটকে থাকে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে৷

ফসিল ফুয়েল: জীবাষ্ম জ্বালানি হলো, শক্তির এমন উৎস, যা শত শহস্র বছর ধরে জীবন্ত প্রাণির অবশিষ্টাংশ মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকতে থাকতে তৈরি হয়৷ শক্তির এ উৎস নবায়নযোগ্য নয়৷ কয়লা বা তেলের মতো মাটির নীচ থেকে পাওয়া শক্তির উৎসের ব্যবহার পৃথিবীতে গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণের অন্যতম কারণ৷ সময়ের সাথে সাথে যতই জ্বালানির প্রয়ো জন বাড়ছে, ততই বেশি পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে এ জীবাষ্ম জ্বালানি এবং সেই সাথে বাড়ছে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ৷ ফলশ্রুতিতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে পৃথিবীর উত্তাপ৷

কিভাবে ঝড় তৈরি হয়?
সমুদ্রের উষ্ণ জলের কারণে বায়ু উত্তপ্ত হলে হঠাৎ করে এসব ঝড়ের তৈরি হয়। তখন তুলনামূলক উষ্ণ বাতাস হালকা হয়ে যাওয়ার কারণে ওপরে উঠে যায়, আর ওপরের ঠাণ্ডা বাতাস নীচে নেমে আসে। এসে নীচের বায়ুমণ্ডলের বায়ুর চাপ কমে যায়। তখন আশেপাশের এলাকার বাতাসে তারতম্য তৈরি হয়। সেখানকার বাতাসের চাপ সমান করতে আশেপাশের এলাকা থেকে প্রবল বেগে বাতাস ছুটে আসে। আর এ কারণেই তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড়ের। এর ফলে প্রবল বাতাস ও স্রোতের তৈরি হয়। যখন এই বাতাসে ভেসে ঝড়টি ভূমিতে চলে আসে, তখন বন্যা, ভূমিধ্বস বা জলোচ্ছ্বাসের তৈরি করে।

সাইক্লোন, হ্যারিকেন আর টাইফুনের মধ্যে পার্থক্য কী?
সবগুলো ঝড়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এগুলোকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন আটলান্টিক, ক্যারিবিয়ান সাগর, মধ্য ও উত্তরপূর্ব মহাসাগরে এসব ঝড়ের নাম হ্যারিকেন। উত্তর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সেই ঝড়ের নাম টাইফুন। বঙ্গোপসাগর, আরব সাগরে এসব ঝড়কে ডাকা হয় সাইক্লোন নামে। যদি কোন নিম্নচাপ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার গতিবেগ অর্জন করে, তখন সেটি আঞ্চলিক ঝড় বলে মনে করা হয় এবং তখন সেটির নাম দেয়া হয়। কিন্তু সেটি যদি ঘণ্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল) গতিবেগ অর্জন করে, তখন সেটি হ্যারিকেন, টাইফুন বা সাইক্লোন বলে ডাকা হয়। এগুলোর পাঁচটি মাত্রা হয়েছে। ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার গতিবেগ অর্জন করলে সেটির সর্বোচ্চ ৫ মাত্রার ঝড় বলে মনে করা হয়। তবে অস্ট্রেলিয়া ঝড়ের মাত্রা নির্ধারণে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে। ঝড়ের নামকরণ কিভাবে হয়? বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা আঞ্চলিক কমিটি একেকটি ঝড়ের নামকরণ করে। যেমন ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করে এই সংস্থার আটটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ওমান। এসব দেশের প্রস্তাব অনুসারে একটি তালিকা থেকে একটির পর একটি ঝড়ের নামকরণ করা হয়। যেমন তিতলির নামকরণ করেছে পাকিস্তান।

ঘূর্ণীঝড় সৃষ্টি
ঘূর্ণীঝড় এর ভয়াবহতা সমন্ধে আমরা কমবেশি সবাই অবগত।
সাগরে কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে যখন জলের তাপমাত্রা +26°সে. থেকে +30°সে. এর ভেতরে থাকে ( এখানে বলে রাখা ভালো যে সাগরের জলের এই তাপমাত্রা কমপক্ষে জলের ৫০ ফিট নিচু পর্যন্ত পৌছাতে হবে) তখন সেখানে খুবুই দ্রুত গতীতে জল বাস্পে পরিনত হয়ে দ্রুত গতীতে উপরের দিকে উঠতে থাকে, ফলে সেই স্থানে বায়ুচাপ বেশ হ্রাস পায়, ফলে আসেপাশের এলাকা থেকে বাতাস সেই ফাঁকা স্থানের দিকে দ্রুত বেগে আসতে থাকে, এবং বাতাস সেখানে এসে পুনরায় গরম হয়ে প্রচুর জলীয়বাস্প নিয়ে আবার দ্রুত উপরের দিকে উঠতে থাকে, আর এ প্রক্রিয়া সমানে চলতে থাকে।
পৃথিবীর আহ্নিক বা ঘূর্ণন গতির ফলে বাতাস সেই স্থানের দিকে যাবার সময় উত্তর গোলার্ধের ঘড়ির কাটার বিপরীতে দিকে ঘুরতে ঘুরতে প্রবাহিত হয়ে সে স্থানে গিয়ে একটি ঘূর্ণনের সৃষ্টি করে।
আর ঐ স্থানে প্রচুর তাপ থাকার দরুন বাতাস প্রতিবার ঐ স্থানে প্রবেশ করার সাথে সাথে গরম হয়ে উপরে উঠতে থাকে এবং একপর্যায় ওখানে বাতাসের একটি ঘূর্ণীপাক সৃষ্টি হয়।
এবং এই ঘূর্ণীপাক এর বাতাসের গতীবেগ ও আকৃতি সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এবং এটি একপর্যায়ে লঘুচাপ তারপর নিন্মচাপ, তারপর গভীর নিন্মচাপ, তারপর অতি গভীর নিন্মচাপ ও আরোও শক্তি বৃদ্ধি করে ঘূর্ণীঝড়ে পরিনত হয়।
এবং এটি ঘূর্ণীঝড়ে পরিনত হবার পর সাগরে বেশি উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এটি ভয়াবহ ঘূর্ণীঝড় বা super cyclone এ পরিনত হয়।
তখন এর কেন্দ্রের আসেপাশে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ২২০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হয়ে যায়।
এবং একপর্যায় এটি কোন এক উপকূলে আঘাত করার পর স্থলভাগে উঠে আসলে তার কেন্দ্রে জলীয়বাস্প সঞ্চয় বন্ধ ও স্থলভাগ সাগরের মতো ফাঁকা না থাকায় স্থলভাগে অবস্থিত গাছপালা, পাহাড় পর্বত বা অন্য কোন কিছুতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে তার কেন্দ্রের দিকে আগের মতো আর বায়ু প্রবাহিত না হবার কারনে একপর্যায় ঝড়টি তার শক্তি হারায়।

সাধারনত একটি ঘূর্ণীঝড় সাগরে সর্বোচ্চ ৫ দিন অবস্থান করে, এর ভেতরেই ঘূর্ণীঝড় টি হয়তো কোন উপকূলে আঘাত করে ধ্বংস হয়ে যায় আর তা না হলে অনেক বেশি সময় সাগরে থাকার ফলে তার কেন্দ্র অনেক শক্তি সঞ্চয় করে একপর্যায় সাগরে বিলিন হয়েযায়।

ঘূর্ণীঝড় সাধারনত নিরক্ষ রেখা থেকে ১০ থেকে ৩০° উত্তর বা দক্ষিন অক্ষরেখার ভেতরে তৈরি হয়ে থাকে, এবং এটি উত্তর গোলার্ধের ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিন গোলার্ধের ঘড়ির কাটার দিকে ঘুরপাক খায়।

নিরক্ষরেখার ১০° এর ভেতরে কোন ঘূর্ণীঝড় সৃষ্টি হতে পারেনা। কারন নিরক্ষ রেখার আশেপাশে কোন ঘূর্ণীঝড় তৈরি হলে ঘূর্ণীঝড় এর কোন অংশ নিরক্ষ রেখার বিপরীত পাশে চলে গেলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে সেই অংশের গতি তার বিপরীত দিকে হতে হবে।
আর সেটা হওয়া আদৌ কোনদিন সম্ভব নয়, সুতরাং নিরক্ষ রেখার আশেপাশে কোনদিন ঘূর্ণীঝড় তৈরি হয়না।

প্রতিবছর পৃথিবীতে গড়ে ৮০ টি ঘূর্ণীঝড় সৃষ্টি হয়, এবং তার ভেতরে সামান্য কটি ঘূর্ণীঝড় উপকূলে আঘাত করতে পারে।
তবে যে কটি ঘূর্ণীঝড় উপকূলে আঘাত করে তার বেশিরভাগ ঘূর্ণীঝড় উপকূলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয়।

পারদপক্ষে ঘূর্ণীঝড় কে বিপদের কারন মনে হলেও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য ঘূর্ণীঝড় সৃষ্টি হওয়া খুবুই গুরুত্বপূর্ণ।
কারন এই ঘূর্ণীঝড় এর সাহায্যে পৃথিবীর সকল দেশের তাপের সমতা ঠিক থাকে।
যদি ঘূর্ণীঝড় না সৃষ্টি হতো তাহলে পৃথিবীর মেরু অঞ্চল আরোও ভয়াবহ ঠান্ডা হয়ে যেতো, এবং নিরক্ষ অঞ্চল ভয়াবহ উস্ন হয়ে যেতো, ফলে পৃথিবী আমাদের থাকার পক্ষে আর অনুকুল থাকতো না।

আমাদের দেশে সাধারনত মার্চ টু জুন ও অক্টবর টু ডিসেম্বর এর ভেতরে বেশিরভাগ ঘূর্ণীঝড় দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পরবর্তী করণীয়গুলি হল
1.রাস্তা-ঘাটের উপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলুন যাতে সহজে সাহায্যকারী দল আসতে পারে এবং দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়।

2.আশ্রয়কেন্দ্র হতে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন এবং নিজের ভিটায় বা গ্রামে অন্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিন।

3.অতি দ্রুত উদ্ধার দল নিয়ে খাল, নদী, পুকুর ও সমুদ্রে ভাসা বা বনাঞ্চলে বা কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করুন।

4.ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ যাতে শুধু এনজিও বা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজে যেন অন্যকে সাহায্য করে সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।

5.রিলিফের মুখাপেক্ষি না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সচেষ্ট হোন। রিলিফের পরিবর্তে কাজ করুন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করুন। রিলিফ যেন মানুষকে কর্মবিমুখ না করে কাজে উৎসাহী করে সেভাবে রিলিফ বিতরণ করতে হবে।

6.দ্বীপের বা চরের নিকটবর্তী কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধারের জন্য দলবদ্ধ হয়ে দড়ি ও নৌকার সাহায্যে লোক উদ্ধারকর্ম আরম্ভ করুন। কাদায় আটকে পড়া লোকের কাছে দড়ি বা বাঁশ পৌঁছে দিয়ে তাকে উদ্ধার কাজে সাহায্য করা যায়।
7.ঝড় একটু কমলেই ঘর থেকে বের হবেন না। পরে আরও প্রবল বেগে অন্যদিক থেকে ঝড় আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

8.পুকুরের বা নদীর জল ফুটিয়ে পান করুন। বৃষ্টির জল ধরে রাখুন।

9.নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ত্রাণ বন্টন (আলাদা লাইনে) করুন।

10.দ্রুত উৎপাদনশীল ধান ও শাক-সব্জির জন্য জমি প্রস্তুত করুন, বীজ সংগ্রহ করুন এবং কৃষিকাজ শুরু করুন

কার্বন ডাই অক্সাইড জলবায়ুর সবচেয়ে বড় শত্রু৷ আর গাড়ি, স্মার্টফোনের মতো কিছু জিনিস, যা থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদিত হয়, সেগুলোর ব্যবহার কম করলে অর্থ খরচ কমবে, জলবায়ুর জন্যও মঙ্গল বয়ে আনবে৷
মানুষ যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে, সেটাই পৃথিবীর তাপমাত্রার মূল নিয়ামক নয়৷ আমাদের গবেষণা বলছে, মানবসৃষ্ট কারণে উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে তা পৃথিবীর অন্যান্য ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলবে, যাক‘ফিডব্যাক’ বলা হয়৷ এটা আরও উষ্ণতা তৈরি করতে পারে, এমনকি আমরা গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করলেও তা হতে পারে৷”

উন্নয়নশীল দেশগুলো কার্বন নি:সরণ কমানোর জন্য এমন কোন আইনি বাধ্যবাধকতা মানবে না,যা কিনা তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত করবে৷”
পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতে গ্যাস নির্গমনের মাত্রা ১৯৯০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমে এসেছে এবং এখনও সেই মাত্রা একই রয়েছে৷ পরিবেশমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, ধনী এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা কমিয়ে আনার জন্য ভারত কানকুনের সম্মেলনে সেতুবন্ধ তৈরির চেষ্টা চালাবে৷

কার্বন নি:সরণ কমানোর জন্য মনিটর করা এবং যাচাই করার যে প্রস্তাব জলবায়ু সম্মেলনে ভারত দিয়েছে সেটাকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা৷ , ভারত সরকার কাগজ কলমে অনেক কিছুই করে যাচ্ছে৷ কিন্তু ধনী দেশগুলো যদি এ ব্যাপারে তাদের কথা না রাখে তাহলে বাস্তবে খুব কমই কাজ হবে৷ তৃতীয় বৃহত্তম গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ ভারত নিজেই এতোদিন যে পরিমাণে কার্বন নি:সরণ করে আসছে, এখন তারই সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত৷

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে ভারতে এসির বাজারে প্রবৃদ্ধির হার দশ শতাংশের বেশি ছিল৷ এছাড়া মানুষের আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এসি চালানোর মতো বিদ্যুতের জোগান থাকায় ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ব্যবহৃত এসি ইউনিটের সংখ্যা একশ কোটি হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷
অর্থাৎ গরম থেকে পরিত্রাণ পেতে মানুষ বিশ্বকে আরও গরম করে তুলবে৷ কারণ এসি তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ এবং সেটি চালাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উৎস, সেগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর৷ ভারতে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের দুই-তৃতীয়াংশ আসে কয়লা আর গ্যাস থেকে৷ যদিও সে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার বাড়ছে, তবুও আরও কয়েক দশক জীবাশ্ম জ্বালানির উপরই ভারতের নির্ভর করতে হবে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠবে৷

Advertisements

মৌসুমি বায়ু দ্বারা ভারতের জলবায়ু বিশেষভাবে প্রভাবিত হওয়ায় ভারতবর্ষকে আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয় । ভারতের জলবায়ুর নিম্নলিখিত প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি পরিলক্ষিত হয় :-

(১) ঋতু পরিবর্তন :- বছরের বিভিন্ন সময়ে ঋতু পরিবর্তন হল ভারতের জলবায়ুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য— (ক) মার্চ মাস থেকে মে মাস গ্রীষ্মকাল (খ) জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস বর্ষাকাল (গ) অক্টোবর মাস ও নভেম্বর মাস শরৎকাল এবং (ঘ) ডিসেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাস শীতকাল । এই চারটি প্রধান ঋতু ভারতের জলবায়ুতে চক্রাকারে আবর্তিত হয় । এছাড়া ভারতে (ঙ) শীতের আগে হেমন্ত এবং (চ) শীতের পরে বসন্ত নামে অপর দুটি ঋতুর আভাস পাওয়া যায় ।

(২) মৌসুমি বায়ু বায়ু প্রবাহ :- গ্রীষ্মকালীন দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালীন উত্তর–পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহের প্রভাবে ভারতের ঋতু পরিবর্তন হয় । মৌসুমি বায়ুর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় ভারতকে “আন্তঃমৌসুমি বায়ুর দেশ” বলা হয় । গ্রীষ্মকালে ভারতে মৌসুমি বায়ু যে দিক থেকে আসে, শীতকালে ঠিক তার বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয় ।

(৩) চরমভাবাপন্ন জলবায়ু :- উত্তর ভারতের জলবায়ু দক্ষিণ ভারতের জলবায়ুর তুলনায় অনেক বেশি চরমভাবাপন্ন, অর্থাৎ উত্তর ভারতের শীত ও গ্রীষ্ম দুটোই খুব তীব্র ।

(৪) গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা :- গ্রীষ্মকালে ভারতের বেশির ভাগ স্থানে মার্চ মাস থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে । এপ্রিল মাসে উষ্ণতা আরো বেশি বেড়ে যায় । এই সময় উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের উষ্ণতা ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় । গ্রীষ্মকালে মে মাসে উত্তর ভারতের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ হয় । এই সময় মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় । গ্রীষ্মকালে মে মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারতের শুল্ক অঞ্চল সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয় । গ্রীষ্মকালে সময় সময় পশ্চিম ভারতের থর মরুভূমি অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে যায় ।

(৫) শীতকালীন তাপমাত্রা :- শীতকালে উত্তর ভারতের তাপমাত্রা দক্ষিণ ভারতের তাপমাত্রার তুলনায় বেশ কম থাকে । এই সময় উত্তর ভারতের তাপমাত্রা গড়ে ১০ ডিগ্রি থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয় । শীতকালে দক্ষিণ ভারতের গড় তাপমাত্রা থাকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো ।

(৬) বৃষ্টিপাত :-

(ক) ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের ৮৪% বৃষ্টিপাত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে, ১৩% শরৎকালে, এবং ৩% শীতকালে সংঘটিত হয় ।

(খ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে ও বর্ষাকালে অর্থাৎ জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সর্বাধিক হয় ।

উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে শীতকালে প্রায় শুকনো থাকে; তামিলনাড়ুর উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত করমণ্ডল উপকুল ছাড়া ভারতের অন্যত্র শীতকালে তেমন বৃষ্টিপাত হয় না ।

(ঘ) পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শীতকালে কিছুটা বৃষ্টি হয় ।

(ঙ) ভারতের বৃষ্টিপাত একটানা না হয়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতে বিরতি ঘটে ।

(চ) ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সঠিক সময় এবং পরিমাণ এক এক বছরে এক এক রকমের হয় । মৌসুমি বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা কোনও কোনও বছর ভারতে খরার অন্যতম প্রধান কারণ এবং অতিরিক্ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত ভারতে বন্যার প্রধান কারণ ।

(ছ) ভারতে আঞ্চলিক বৃষ্টিপাতের অসম বন্টন দেখা যায়— পশ্চিম উপকুল, আন্দামান নিকোবর, উত্তর–পূর্ব রাজ্যসমূহ ও উত্তরবঙ্গে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হয়; আবার রাজস্থানের মরুভূমি এবং লাদাখ, কারাকোরাম প্রভৃতি অঞ্চলে বছরে অতি অল্প বৃষ্টিপাত হওয়ায় এদের শুল্ক অঞ্চল বলা হয় ।

ভারতের জলবায়ুতে হিমালয় পর্বতের প্রভাব:- ভারতের সমগ্র উত্তর ভাগ জুড়ে হিমালয় পর্বত শ্রেণি বিস্তৃত থাকায় ভারতের জলবায়ুর উপর হিমালয় পর্বতের অসাধারণ প্রভাব রয়েছে ।

(১) হিমালয় পর্বতের অবস্থান ভারতীয় উপমহাদেশকে মধ্য এশিয়ার হাড় কাঁপানো শীতের হাত থেকে রক্ষা করেছে । হিমালয় পর্বত না থাকলে ভারতেও রাশিয়া ও চিনের মতো তীব্র শীতের প্রাবল্য দেখা যেত ।

সমুদ্র থেকে আগত জলীয় বাস্প পূর্ণ দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতের দক্ষিণ ঢালে বাধা পেয়ে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় । মৌসুমি বায়ু প্রবাহের দ্বারা সংঘটিত বৃষ্টিপাতে হিমালয় পর্বতের অসাধারণ প্রভাব রয়েছে ।

(৩) ভারত এমনিতে উষ্ণ মৌসুমি জলবায়ুর দেশ হলেও উচ্চতার প্রভাবে হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে অনেকটা তুন্দ্রা অঞ্চলের মতো অতি শীতল জলবায়ু দেখা যায় ।

বিশাল ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ ভুপ্রকৃতির জন্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং স্বাভাবিক উদ্ভিদের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে আবহাওয়াবিদ কোপেন-এর মত অনুসরণ করে ভারতকে আটটি জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যথা:- (১) শীতল পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চল, (২) উষ্ণ মরু অঞ্চল, (৩) ক্রান্তীয় অতি আর্দ্র মৌসুমি অঞ্চল, (৪) উপক্রান্তীয় আর্দ্র মৌসুমি ও শুষ্ক শীতপ্রধান অঞ্চল, (৫) নাতিশীতোষ্ণ স্বল্প গ্রীষ্ম ও শীতল আর্দ্র অঞ্চল, (৬) ক্রান্তীয় সাভানা অঞ্চল, (৭) মরুপ্রায় ক্রান্তীয় অঞ্চল এবং উপক্রান্তীয় স্টেপস অঞ্চল, (৮) ক্রান্তীয় শুষ্ক গ্রীষ্ম ও শীতকালীন বৃষ্টিপাত অঞ্চল ।

(১) শীতল পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চল :- হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও জম্মু-কাশ্মীরের পার্বত্য অঞ্চল; হিমাচল প্রদেশের রোটাংপাস এবং লাহুল ও স্পিটি উপত্যকা; উত্তর প্রদেশের কেদারনাথ, বদ্রী নারায়ণ, গঙ্গোত্রী-গোমুখ অঞ্চল প্রভৃতি শীতল পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত । সারা বছরই এখানে তীব্র শৈত্য থাকে এবং শীতকালে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে -১ ডিগ্রি থেকে -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায় ।

(২) উষ্ণ মরু অঞ্চল:- পশ্চিম রাজস্থানের মরুস্থলী ও থর মরুভূমি এই অঞ্চলের অন্তর্গত । গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলের উষ্ণতা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায় । এছাড়া এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২ থেকে ২০ সেমি । এই জন্য এই অঞ্চলকে শুষ্ক অঞ্চল বলা হয় ।

(৩) ক্রান্তীয় অতি আর্দ্র মৌসুমি অঞ্চল :- এই জলবায়ু অঞ্চলের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি – ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টি পাতের পরিমাণ ২৫০ থেকে ৩০০ সেমিরও বেশি । ভারতের পশ্চিম উপকূলবর্তী কেরালা, কর্ণাটক এবং গোয়া রাজ্য এই অঞ্চলের অন্তর্গত । এই অঞ্চলগুলি অত্যধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল ।

উপক্রান্তীয় আর্দ্র মৌসুমি ও শুষ্ক শীতপ্রধান অঞ্চল:- মৌসুমি বাহুর প্রভাবে এই অঞ্চলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে মাঝারি থেকে ভারী ধরনের বৃষ্টিপাত হয় । এছাড়া এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক এবং শীতকালে শীতল আবহাওয়াযুক্ত হয় । উত্তর ভারতের সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে এই জলবায়ু দেখা যায় ।

(৫) নাতিশীতোষ্ণ স্বল্প গ্রীষ্ম ও শীতল আর্দ্র অঞ্চল:- অসমের পূর্বাংশ ও অরুণাচল প্রদেশকে নিয়ে গঠিত এই জলবায়ু অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অত্যধিক । প্রায় ২৪০ সেমি থেকে ৩০০সেমি । এছাড়া স্বল্প স্থায়ী গ্রীষ্মকাল এবং শীতের কিছু দিন বাদ দিলে সারাবছর ধরে নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ।

(৬) ক্রান্তীয় সাভানা অঞ্চল :- দক্ষিণবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুর কিছু অংশ, গুজরাট প্রভৃতি অঞ্চলে এই ধরনের জলবায়ু দেখা যায় । শুকনো শীতকাল এবং অতি উষ্ণ গ্রীষ্মকাল হল ক্রান্তীয় সাভানা জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য । এই ধরনের জলবায়ুতে সাভানা তৃণভূমির সৃষ্টি হয়, তাই এই জলবায়ু অঞ্চলের নাম রাখা হয়েছে ক্রান্তীয় সাভানা অঞ্চল ।

(৭) মরুপ্রায় ক্রান্তীয় অঞ্চল এবং উপক্রান্তিয় স্টেপস অঞ্চল :- পূর্ব রাজস্থান, দক্ষিণ-পশ্চিম পাঞ্জাব এবং ভারতের পশ্চিম উপকূলবর্তী পশ্চিমঘাট পর্বতমালার বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাঝারি থেকে বেশ কম প্রায় ২০ থেকে ১০০ সেমি । জলবায়ু চরমভাবাপন্ন অর্থাৎ শীত ও গ্রীষ্ম দুই খুব বেশি ।

(৮) ক্রান্তীয় শুষ্ক গ্রীষ্ম শীতকালীন বৃষ্টিপাত অঞ্চল:- ভারতের পূর্ব উপকূলের দক্ষিণ অংশে প্রধানত করমণ্ডল উপকূল অবস্থিত এই জলবায়ু অঞ্চলের গ্রীষ্মকাল শুষ্ক প্রকৃতির এবং সাধারণত শীতকালেই বেশি বৃষ্টিপাত হয়

একটা নতুন ক্ষ্যাপামি করা যাক, তবে উত্তর আমি বাংলাতেই দেবো….🤗❤️😀🙂

1. Tattoos – নেই ।
2. Coloured hair – নেই ।
3. Surgeries – সাতবার ।
4. Broken a bone – হ্যা(তিনবার ভেঙ্গেছি) ।
5. One Sided Love – হ্যা(বায়োলজির প্রতি, যদিও সে আমাকে মুখ ফিরিয়েও দেখেনা) ।
6. Watched someone die – হ্যাঁ(টোটাল সতেরো জনকে, গুনেছিলাম, আজও গুনি)।
7. Donated blood – হ্যাঁ(সংখ্যাটা প্রপার মনে নেই) ।
8. Ridden in an ambulance – হ্যাঁ, অনেকবার ।
9. Had a pet – কুকুর পুষতে চেয়েছিলাম, মা বলল একবাড়িতে দুটো কুকুরকে রাখা হবেনা, অতএব নিজের পজিসান সুরক্ষিত করতে আর চেষ্টা করিনি পেটের।
10. Rode a horse – হ্যাঁ, দুবার ।
11. Stayed in a hospital – বহুবার ।
12. Rode in the back of a police car – হেহে, হ্যাঁ, পুলিশ এর জীপেও চেপেছি ।
13. Travelled without ticket – বাসে করেছি তবে কম, ট্রেনে অনেকবার, কিছুটা গেতোমির কারনে, কিছুটা অ্যাডভেঞ্চার, তবে ফাইনও দিতে হয়েছে ধরা পড়ে ।
14. Danced all night – হ্যাঁ, শান্তিনিকেতনে, স্কুল ট্রিপে ।
15. Stopped if a cat crossed ur path – কোনোদিনই না, আমার জন্য ওরও তো ক্ষতি হতে পারে, আমিও তো ওর রাস্তা কেটেছি নাকি?
16. Slapped anyone – বহুবার, ছেলে মেয়ে, ছোট বড়ো নির্বিশেষে ।
17. Written a Love letter – হ্যাঁ, একবার(নিজের জন্য না) ।
18. Danced on the street- হ্যাঁ, স্কুলের শেষ দিনে, যাকে বলে হুব্বা নাচ ।
19. Hit someone till they bleed- না, এতটা অমানবিক নই ।
20. Stole something – অনেক কিছু, সবথেকে বেশী আমুল দুধ, মধু, মাখন, ঘি, ছানা, দই, মিষ্টি, ক্যাডবেরি, চিনি, চানাচুর, আচার,আরও কত কি ।
21. Cried all night – অনেকবার ।
22. Tasted alcohol – সত্যি বলতে পারবো না ।
23. Seen a ghost – ওরা আছে, অনুভব করেছি, একবার না, বহুবার, আর একা না, অনেকের সাথেই ।

Hold your finger, copy, go to your
timeline and paste.

Change the answers accordingly.
Enjoy!!!
I Am honest…..loved doing this😘😘

A TOURIST HOTSPOT IN ODISHA Satapada, Dolphins and Chilika Sea Mouth Exploring India’s largest Coastal Lagoon Boating in Chilika Lake and the story of gems corals & crystals, Odisha (India): Anindita chaudhuri

we the Geographers define a “lagoon” as a special type of lake separated from the sea by a narrow natural embankment with small openings connecting it with the sea. On the other hand biologists claim that these small openings allow salt and sweet water to intermingle and thereby form a unique, but fragile, ecosystem found nowhere else in the world.

Chilika is a brackish water lake, a huge lagoon, touching at least three districts of Odisha. It happens to be one of the largest such lakes in the world, and certainly without peer in India, covering an area of over 1100 sq km. It is an integral part of the local culture and economy; more than 1.5 people live in the 132 villages settled near its shores and depend on its waters for their livelihood. The lagoon is also a favourite of migratory birds with nearly 225 species flocking to it during the winters, some covering as much as 12000 km to reach here.

Chilika Lake is situated on NH-5 about 80 km from Bhubaneswar.The lake is the largest brackish water lagoon in India.During winter migratory birds of many kinds flock to Chilika and the lake becomes the Habitat of lots of birds which fly from far off places like Siberia.Lots of tourists visit the lake throughout the year to enjoy its scenic beauty and also the flora and fauna.Dolphins are also spotted in the lake in a place on its bank , Satapada.Tourists enjoy boating in the lake and visit the small islands in the lake.The place is a paradise for picnickers who come alongwith families and spend quality time on various picnic spots on its bank.

The Satapada Jetty, Chilika Lake, Odisha, it is a place where one can cruise through the endless expanse of blue water, laced with green hills in the company of herons, kingfisher, kites and the last but not least the elusive jumping dolphins – it’s paradise!

You may have guessed it by now – this is Chilka, India’s largest brackish water lagoon and one of the subcontinent’s largest winter-ground for migratory birds.

Located just south of Puri, the 1100 sq kms (it shrinks to 900 sq kms during the dry season) lake is bordered on the north by the alluvial plain of Mahanadi Delta.

On the east and south by the rocky hills of Eastern Ghats. Bay of Bengal lies on the eastern side.

Located at different strategic positions of the lake are a number of tourist spots, including Satapada, famous for its dolphins sightings.

Boat ride in Chilika Lake, Satapada, Odisha
I visited Satapada (Chilika) with my family. The five day tour at puja Holiday Differently in Bengali’s and tourist spot Puri.

It was little over an hours journey to Satapada from Puri. Well before we reached Satapada the Chilika Lake was visible on our right.

Satapada is an entry point to the Chilka Lake and is famous for Dolphin Sighting and trips to the sea mouth.

The boat journey from Satapada to the sea mouth (mohana) takes little over an hour and includes a brief stopover for dolphin sighting.

The Dolphin is the flagship species of the Chilika Lake and there are spotted leaping out of the water, sadly they barely come out of the water making photography extremely difficult.

Getting down from the boat, Chilika sea mouth (mohana)
Our disappointment was soon overcome by a remarkable journey through the lake where the boatman, with remarkable skills, guided our boat through a complicated maze of fishing nets attached to bamboo poles.

A short walk through the area under afforestation, Chilika Sea Mouth (Mohana), Satapada, Odisha
The one-hour journey took us past fishing villages located on the numerous islands that dot the lagoon. We landed, which was a tricky one, on a narrow stretch of sand separating the lake from the sea. On our east lay the rough seas of the Bay of Bengal and on the west were the calm waters of Chilka.

Near the Chilika Sea Mouth (Mohana), Satapada, Odisha.This narrow stretch of sand also houses some makeshift food stalls selling fried fish and crabs but the centre of attraction is definitely the pearls sold straight out of oyster shells! A short walk through an area under afforestation took us to the sea, the Bay of Bengal. The sea mouth was not visible from the spot. The sea was spectacular and feathery white clouds in the deep blue sky created a picture postcard scene.

Chilika lake is one of the popular places to visit in Odisha and it’s spread over Puri, Khurda and Ganjam regions of Odisha state. It’s on east coast of India which flows into the Bay of Bengal. It’s largest coastal lagoon in India and second largest lagoon in the world. The largest one is New Caledonian barrier reef. Recently we visited Chilika lake Supposedly Chilika Lake is largest wetland on the Indian sub-continent for Migratory birds in winters. Lot of tourists visit Chilika lake but main ecosystem is around fishery resources. There are thousands of fisher-folks in villages around shoreline and islands around Chilika Lake. Nature lovers would certainly love the place and if you like following birds, it’s certainly a good place for you.As you see lot of these pearls being shown in our photographs. So this is a typical thing in Chilika lake that locals show you pearls and different kinds of stones. And they break shells in front of you. Not sure how real these are but we bought few by paying thousands. There are lot of stories about the stones sold around Chilika. For a moment, we were also depressed by the thought that stone we bought can be fake. We are not experts and we don’t even want to get these tested (for our own peace). But be cautious before taking such decision. They can be fake or real. You have to see if you like any of these stones and willing to pay a price.Boat rides are interesting they give life jackets which was surprising for us. We see dolphins in Chilika lake. It seems that early morning view around Chilika lake is very interesting.Since lake is huge, boating experience of Chilika Lake is different.

we visited the satpada part of the lake .An excellent natural lake which makes us wonder whether we are doing our part in conserving what nature has given us.We went to the dolphin viewing part chilka. There are boat rides for different durations depending on what all we want to see which is displayed at the boat booking counter,and the good part stops there. once you reach the lake there are no sign boards or queue system which tells you which boat etc and ther no public announcement system to let people know also.life jackets given to the travellers because the lake is shallow (as told to us), the information board says the maximum depth is 15meters.A boat ride will give you amazing views of the bay beyond and also a wide array of birds a feast for an ornithologist.

The tourist centre was a disappointment, there are hardly any facilities like clean toilets or sitting area. The boat charges were on a higher side, but since that was the very intent of our visit, we took a package and walked to the jetty with our boatman. He was a middle-aged smiling fellow who took good care of us and showed us around leisurely. The boats are mostly wooden with a shade above and had nominal safety standards. Similar boats are used to ferry villagers from one station to another and since the lake is mostly very shallow, the risk is apparently lesser.

Chilika has to be described in one word, it has to be serene. Do not go there expecting adventure or many activities; all you can do is – relax, soak in the beauty of nature, and live the moment. This is what we did for most of the time, bask in the quaint beauty of the lake, interrupted only by occasion annoyance of unscrupulous hustlers trying to pass on fake pieces of glass and plastic as gems and pearls.
Chilika and the humans living on its shores have developed a close symbiotic relationship for centuries. We see this connection unravel itself once we are in its waters, watching the lives of the people who live there, lives that depend on the lake in more than one ways. There are fishermen setting their nets for the daily harvest, children going to school, hawkers selling their wares on boats and many such glimpses of the life in the region.

Irrawaddy Dolphins are to Chilika, what Tigers are to the jungles of Central India. These intelligent mammals are the star of Chilika and cause as much clamour among tourists when sighted, as does the king of the Jungle in the forests. There are regulations stating that the boats must maintain a distance of 50 m from the dolphins, but in the rush to sight them (in expectation of tips), I am not sure if the rules were being followed all the time.

Fortunately, our boatman was careful enough to silence the engines every time a dolphin came near our boat. We saw these beautiful creatures jumping in and out of the water. Let me tell you, it was incredible!

We were also able to spot many migratory birds in the area; however, my knowledge of birds is not good yet and I did not recognize many of them. Guess we will have to visit it again in the winters, and with reference books, for a better-informed birding experience. Nalaban Bird Sanctuary will be the place to be at then.

Towards the mouth of the lake, where it meets the sea, there is an uninhabited island known as the Crab Island, primarily because of an abundance of red crabs on its beach. The face of the island facing the sea has a beautiful and almost virginal white sand beach, with sand dunes on one side and a forest on the other. We spent some time there just getting our feet wet and watched a fisherman as he proceeded to catch some fish for the evening.

I had been to Orissa for laxmi pujo….On our tour we visited the famous Chilika Lake to see dolphins and it is the only lake where dolphins are seen…
Enroute the boat stopped at small island where fisherman sell pearls, stones and corals.They claimed they were selling pearls very cheap than any jewelers and they said we will open the shells before you and if there is pearl we will give you…They began to crack open the shell n took out pearls there were cream pink and white…..yes a black one I dint knew there is black pearl…and he sold them…
Later after we left the island..,one guy ,co-sailor said these people do gimmicks n they sell artificial ones and they put plastic pearls and glue empty shells…I didn’t feel the fisherman dishonest but I just nodded my head…

After seeing dolphins the boat stopped at yet another small island there too some fishermen were selling…they give me a shell.one day after the shell opened on its own and it had a pearl .I remembered the co-sailors words so I smelled it yuck it smells like fish.It means my authenticity was right
I am moved by the honesty of that person …At the same time I felt bad that we city dwellers have moved so far from honesty that we fail to recognise one when we come across one.
There is no guarantee that the famed jewellers are honest yet we buy just seeing the brand…why cant we trust honest people have we reached such a stage to think all poor uneducated as theives and cheats?

The other side of the island, facing the jetty has some shanties selling cold drinks, water and seafood, which tasted great. I just hope that they are taking care of a proper disposal of waste. It would be a shame if this beautiful island were spoiled because of unchecked commercialization as it happened to numerous tourist places across India.

Chilika was a good experience, a day spent close to nature and its people. I hope the authorities take some steps to improve the tourist facilities and control the use of plastics in the area, but the place is relatively uncommercialized till now and a good place to visit. We will go again, the time for the birds, dolphins and the endless countless waves.

#Anindita chaudhuri

Orissa is a wonderful place and konark is awesome architectural beauty…How Accurate was the Sundial of Konark Sun Temple of Odisha, still gives accurate time even today. IT IS ALSO INTERESTING THAT THE ORISSA SCRIPT CARACTERS LOOK THE SAME AS THE MAYAS SCRIPTS AND ALL OF THEM WERE EXPERTS IN CALENDERS AND MARKING TIME. The information from sun temple Konark is an eye opener not only for every Indian but also of all those who do not believe in capability of ancient Indians in human ingenuity.6 days tour starting from puri , nandankanon zoological park,udaigiri, khandagiri, dhabalgiri and ending at konark sun temple,chandravaga river with family & some lovely… (Random clicks)An experience to behold….people shared their stories .It amused me ..Konark Surya Mandir in NighVision..
With beautiful light & sound system.

Chilika Lake is a brackish water lagoon, spread over the Puri, Khurda and Ganjamdistricts of Odisha state on the east coast of India, at the mouth of the Daya River, flowing into the Bay of Bengal, . It is the largest coastal lagoon in India and the second largest coastallagoon in the world .Chilika Lake is a shallow bar-built estuary with large areas of mudflats. The western and southern margins of the lake are fringed by the Eastern Ghats hill range.

“There’s so much more to life than finding someone who will want you, or being sad over someone who doesn’t. There’s a lot of wonderful time to be spent discovering yourself without hoping someone will fall in love with you along the way, and it doesn’t need to be painful or empty. You need to fill yourself up with love. Not anyone else. Become a whole being on your own. Go on adventures, fall asleep in the woods with friends, wander around the city at night, sit in a coffee shop on your own, write on bathroom stalls, leave notes in library books, dress up for yourself, give to others, smile a lot. Do all things with love, but don’t romanticize life like you can’t survive without it. Live for yourself and be happy on your own. It isn’t any less beautiful, I promise.”